• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১, ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

প্রতিদিন কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হয় যে বাজারে


বিজন কুমার, দিনাজপুর
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৩, ০৯:১৮ এএম
প্রতিদিন কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হয় যে বাজারে

মঙ্গলবার (২ মে) ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৮টা। দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের গাবুড়া হাটে গিয়ে দেখা গেল বিশাল টমেটোর বিশাল স্তূপ। চারপাশে শ্রমিকরা কাজ করছেন দলে দলে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা বাজারে এসেছেন ভোর ৫টায়, কাজ করবেন দুপুর পর্যন্ত। আলাপের একপর্যায়ে জানা গেল, স্থানীয়দের কাছে এই হাট টমেটোর বাজার নামে পরিচিত। এই বাজার বছরের মার্চের মাঝামাঝি শুরু হয়ে চলে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। প্রতিদিনের কার্যক্রম ভোর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মৌসুমি এই বাজারের জন্য শ্রমিকরা অপেক্ষা করেন বছরজুড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, এ বাজারের ব্যাপ্তি শুধু গাবুড়া হাটেই নয়। পার্শ্ববর্তী মোস্তান বাজার পর্যন্ত বসে মৌসুমি এই হাট। এখানে কাজ করছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, কেউ কৃষক, কেউ আবার অন্য কাজের সঙ্গে জড়িত।

বাজারের পরিধি, পাইকারি মহাজন আর শ্রমিক সংখ্যা দেখে বোঝাই যায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় কোটি টাকার টমেটো কেনাবেচা হয়। এই বাজারের শ্রমিকদের কাজগুলো তিনটি স্তরে বিভক্ত। এখানে কেউ ক্রয়কৃত টমেটো বাছাই করে ক্যারেটে রাখেন, কেউ টমেটো সাজানোর জন্য ক্যারেট প্রস্তুত করেন। যেমন সুতা লাগিয়ে দেওয়া, পুরোনো পত্রিকা ক্যারেটে বিছিয়ে দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজ। আর অন্যজন কাজ করেন ক্যারেটের ওপর স্তরে বড় মাপের টমেটো লাইন করে সাজিয়ে ক্যারেট পরিবহন যোগ্য করে তোলার। ওপরের স্তরে কাজটি শ্রমিকদের কাছে ‘মাথি মারা’ নামে পরিচিত। শ্রমিকরা বলছেন, মাত্র ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে এখানে তাদের পারিশ্রমিক মেলে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অন্য কাজের তুলনায় এখানে চাপ কম, একই সঙ্গে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা যায়। অল্প সময়ে মেলে ভালো পারিশ্রমিক। এমন নানা কারণেই, মৌসুমি এ বাজারের জন্য তারা অপেক্ষা করেন বছরজুড়ে।

জীবন দাস স্বর্ণের কাজ করেন। বর্তমানে তিনি টমেটোর বাজারে কাজ করছেন। কথা হলে তিনি বলেন, “আমি স্বর্ণের কাজ করি। কাজের ওপর টাকা পাই স্বর্ণের দোকানে। এখন তেমন কাজ নেই। আমার বাড়ির পাশেই বাজার। তাই কাজ করতে এখানে চলে আসছি। কয়েক ঘণ্টা কাজ করব। ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হাজিরা পাব। এরপরে লিচুর কাজে যাব। ওখানেও এমন হাজিরা পড়বে।”

২০ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন। ট্রলির হেলপার হিসেবে কাজ করেন বছরের অন্য সময়। কথা হলে তিনি বলেন, “এখানে কাজ করলে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা যায়। রোদ লাগে না, ছায়ায় এক জায়গায় বসে বসে কাজ করি। বিকেলে বিশ্রাম করা যায়। ভোরে আসছি, কিন্তু কাজে ধরছি ৬টার দিকে। দুপুর পর্যন্ত কাজ করলে ৫০০ টাকা পাব। এই পর্যন্ত প্রায় হাজার বিশেক (২০ হাজার) টাকা আয় হইছে। অন্য জায়গায় কাজ করলে তো দৌড়ায় বেড়াতে হয়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমে ভালো আয় করা যায় বলে এই বাজারের অপেক্ষায় থাকি।”

Link copied!