• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

ফরিদপুরের নারীকে ভারতে বিক্রি, দুইজনের যাবজ্জীবন


ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৩, ০৯:২৭ পিএম
ফরিদপুরের নারীকে ভারতে বিক্রি, দুইজনের যাবজ্জীবন

মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ফরিদপুরে এক নারীকে ভারতের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ায় নারীসহ দুইজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ করে টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শমসের খাঁ (৪৪) এবং সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা কুটি বেগম (৪৭)। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক ছিলেন।

২০১১ সালের ২ জুন নগরকান্দা থানায় এ মামলাটি করেন সদপুরের চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল বেপারি।

এজাহারে তিনি বলেন, তার স্ত্রীকে (২৩) মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শমসের খা তাদের কাছে ৬০ হাজার টাকা নেন। শমসের খাঁর বড় ভাই মোকলেস খাঁ মালয়েশিয়ায় একটি কাজ করেন। তার মাধ্যমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অনেক নারী পুরুষ বিদেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই প্রলোভন দেখান। এরপর ভিসা হয়েছে বলে ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি তার স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে যান। ৩০ মে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রীকে ভারতের বেঙ্গালোর একটি পতিতালয়ে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় নগরকান্দা থানায় এ মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খালিদ আহমেদ। তিনি ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর শমসের খাঁ ও কুটি বেগমকে ২০০২ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির মানব পাচার প্রতিরোধ সেলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা দীপ্তি বল জানান, ২০১২ সালে দেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন করা হয়। এই মামলাটি ২০১৬ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দীপ্তি বল আরও জানান, ভারতের বেঙ্গালরের একটি পতিতালয় থেকে ওই ব্যক্তির স্ত্রীসহ ২০ তরুণীকে ২০১১ সালে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের কলকাতায় লিলো হোম নামের একটি সরকারি সেফ হোমে রাখা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই মামলাটি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ফরিদপুরের সদস্য আইনজীবী শামসুন্নাহার নাইম পরিচালনা করেছেন । তিনি বলেন, ফরিদপুরের এই মানব পাচার মামলায় তিনি (দীপ্তি বল) নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি স্বপন পাল জানান, এ রায়ে দেশে মানব পাচার প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং দেশে মানব পাচারের প্রবণতা কমে আসবে। তিনি বলেন, আসামিরা যেদিন গ্রেপ্তার হবে সেই দিন থেকে তাদের সাজা শুরু হবে।

Link copied!