• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

নিষেধাজ্ঞ শেষ, কাঁকড়া আহরণে সুন্দরবনে ছুটছেন জেলেরা


মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৪, ০৮:২৪ এএম
নিষেধাজ্ঞ শেষ, কাঁকড়া আহরণে সুন্দরবনে ছুটছেন জেলেরা

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে শুক্রবার (১ মার্চ) থেকে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বনে যেতে শুরু করেছেন মোংলাসহ বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে তারা বনে প্রবেশ করছেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। জলভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল আছে। এসব খালে ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারী দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৫৯ দিনের জন্য জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশ করে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ রাখে বন বিভাগ।

করমজল বন্যপ্রাণী ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনের মধ্যে অভয়ারণ্য ঘোষিত ৩০টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছরই কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ থাকে। বাকি অংশের নদী ও খালে বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫ হাজার জেলে শুধু কাঁকড়া আহরণ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। ১৯৯৮ সালে কাঁকড়া রপ্তানি নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকেই প্রতিবছর দুই মাস কাঁকড়া ধরার পাসপারমিট বন্ধ রাখা হয়।

মোংলা চিলা বাজারের জেলে সরদার বেলায়ের হোসেন বলেন, “আর্থিকভাবে সচ্ছল কোনো লোক সুন্দরবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যান না। যারা যান, তারা প্রায় সবাই দরিদ্র। দুই মাস নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দরিদ্র জেলেদের চরম দুর্দিন গেছে। বন্ধের দিনগুলোয় সরকারি কোনো ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে তাদের। শুক্রবারসকালে কাঁকড়া ধরার অনুমতি পেয়ে তারা স্বস্তি পেয়েছে।”

হারুন মোল্লা নামের এক জেলে জানান, তার সংসারে সাতজন সদস্য। সুন্দরবনে একদিন না গেলে তার চুলা জ্বলে না। দুই মাসের কাঁকড়া আহরণ বন্ধে দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালিয়েছেন। মহজানের কাছ থেকেও ধার নিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

জেলেদের অভিযোগ, বনবিভাগ যে উদ্দেশ্যে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা সফল হয়নি। কারণ, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গোপনে কাঁকড়া আহরণ হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, কাঁকড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুন্দরবনে বিভিন্ন নদী-খালে দুই মাস জেলেদের কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। ১ মার্চ থেকে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলেরা প্রবেশনিষিদ্ধ অভয়াশ্রম ছাড়া অন্য নদী-খালে কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। তবে কেউ যাতে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরার অনুমতি নিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সেজন্য বনরক্ষীদের টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Link copied!