• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

এবার বিদ্যুতের আলো পৌঁছাল বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ায়


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৩, ০৫:১১ পিএম
এবার বিদ্যুতের আলো পৌঁছাল বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ায়

সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে প্রথমবার বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া বিদ্যুতের আওতায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে কুতুবদিয়া বিদ্যুতের আওতায় জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।

প্রকল্পটির পরিচালক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “বুধবার রাত থেকে দ্বীপটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পৌছে গেছে। প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার গ্রাহককে এ সুবিধা সরবরাহ করা হয়েছে। দ্বীপতে ১৯৮০ সালে জেনারেটরের মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। ওই দেড় হাজার গ্রাহককে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে গ্রাহকদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ হাজার গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের অধীনে সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে কুতুবদিয়া। কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ নিতে সাগরতলে দুই লেনে গেছে দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার কেব্‌ল। সেখানে ১২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন উপকেন্দ্র, ৭২০ কিলোমিটার সঞ্চালন বিতরণ স্থাপন হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির আওতায় নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে তিনটি সাবস্টেশন নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হাতিয়া থেকে ১১ কেভি সাবমেরিন লাইনের মাধ্যমে নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুৎ নেওয়া হবে।”

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যারা এ ধরনের প্রকল্পের কথা চিন্তাও করেনি তা প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করলেন উল্লেখ করে ফারুক আহমেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে। কুতুবদিয়ায় সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দ্বীপবাসীর জন্য একটি স্বপ্নপূরণ। তাই কুতুবদিয়াবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।”

২১৫ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বর্তমানে দেড় লাখের অধিক মানুষের বসবাস। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় ১৯৮০ সালে জেনারেটরের মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্বল্প পরিসরে জেনারেটরের মাধ্যমে উপজেলা সদর ও তার নিকটের এলাকায় সন্ধ্যার পর কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখে পিডিবি। ২০০৮ সালে কুতুবদিয়ায় বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও তা কাজে আসেনি।

Link copied!