দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের দৌলতদিয়া প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ জট। পদ্মায় ড্রেজিং কাজ চালু থাকা, রো রো ফেরির জন্য পর্যাপ্ত ঘাট না থাকা এবং মাওয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ জুড়ে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচা পণ্যবাহী ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যানসহ ব্যক্তিগত গাড়ির জট রয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা বাসযাত্রী রবিউল বলেন, “অফিসিয়াল কিছু কাজ থাকায় আজ ঢাকা যাচ্ছি। কিন্তু এই দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে এখন অসহ্য লাগতেছে। কখন ফেরিতে উঠতে পারব কোন নিশ্চয়তা নাই।“
ফরিদপুর থেকে আসা তন্ময় জানান, “প্রায় চার ঘণ্টা হয়ে গেল যানজটে বসে আছি। কখন ফেরিতে উঠতে পারব জানি না। এই গরমের মধ্যে যানজটে বসে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছি।”
সাতক্ষীরা থেকে আসা সাতক্ষীরা লাইনের সুপারভাইজার রাসেল জানান, “দীর্ঘ জটে বসে থেকে চালকদের ক্লান্তি চলে আসছে। এর ফলে ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাছাড়া যাত্রীরাও বিরক্ত হচ্ছে। তাদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।“
যশোর থেকে কাঁচা পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক চালক ফরিদ মন্ডল বলেন, “গত রাতে ফেরিঘাটে আসলেও এখনো ফেরিতে উঠতে পারি নাই। ঘাটের ড্রেজিং কাজ চলায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘাটে কিছু হলেই আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই নৌপথে আরো ফেরি ও ঘাটের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।”
বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন (বাণিজ্য) জানান, ঘাটের ড্রেজিং কাজ চলা এবং শিমুলিয়া বাংলা বাজার ঘাট বন্ধ থাকার কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়ায়। আমরা সেটি নিরসনের জন্য কাজ করছি। এখন ছোট বড় মিলিয়ে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। বড় ফেরি লোড আনলোডের জন্য ঘাট স্বল্পতা রয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও কাঁচাপণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করছি। আশা করছি দ্রুত সময়ে এই যানজট কেটে যাবে।



































