• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

পাল্টে গেছে দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র


চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২১, ১১:৪২ এএম
পাল্টে গেছে দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র

দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন। ১৮৭১ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে ভারতের কলকাতা ও বাংলাদেশের গোয়ালন্দ রেল যোগাযোগ চালু করে। ওই সময় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনটি চালু হয়। সেই থেকে এটি আমদানি-রপ্তানি শুল্ক স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে এ স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে। ভারত থেকে প্রতিদিনই ট্রেনের ওয়াগানে করে এই স্টেশন হয়েই প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়।

ঐতিহাসিক এ স্টেশনটি আগে ছিল বেশ অপরিষ্কার। স্টেশনের চারদিক ছিল ঝোপ-জঙ্গলে ভরা ও অন্ধকারে নিমজ্জিত। কিন্তু বর্তমানে সেই  চিত্র একেবারে ভিন্ন। এ রেলওয়ে স্টেশন এখন ঝকঝকে তকতকে, চারদিকে সবুজ গাছপালায় ঘেরা বেষ্টনী আর ঝলমলে আলোয় আলোকিত।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে মীর মো. লিয়াকত আলী দায়িত্ব গ্রহণের পর এই স্টেশনের চিত্র পাল্টে গেছে। স্টেশন কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় মনোরম পরিবেশ পেয়েছে চুয়াডাঙ্গার এই রেলওয়ে স্টেশনটি।

সরেজমিনে দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনের দুই পাশে প্ল্যাটফর্মের ফাঁকা জায়গায় ফুলবাগান করেন স্টেশন কর্মীরা। যদিও ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় পরে ওই স্থানে লাগানো হয় আম, কাঁঠাল, বেল, নীম, দেবদারু, শিউলি ও বকুল ফুল গাছ।

গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। গাছগুলোতে ফল ধরা শুরু হয়েছে। সবুজের সমারোহে ঘেরা গোটা স্টেশন চত্বরটি পাখির কলতানে মুখরিত  থাকে। একটি বানর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে। পুরো স্টেশনজুড়ে বিরাজ করছে  অন্য রকম পরিবেশ।

দিনের বেশির ভাগ সময়ই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঝাড় দিয়ে ঝকঝকে করে রাখেন। কোনো ময়লা আবর্জনা জমতে দেওয়া হয় না এখানে। নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা স্টেশনের মনোরম পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন নারী-পুরুষ।

দর্শনার স্টেশনে রেলযাত্রী মাহফুজ উদ্দীন খান পেশায় সাংবাদিক। তিনি বলেন, “সারা দেশে রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনের মতো পরিবেশ থাকলে যাত্রীরা রেল ভ্রমণে আকৃষ্ট হবেন।”

রেলযাত্রী এনজিও কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যুদ্ধ বলেন, “স্টেশনে প্রবেশ করলেই মনটা জুড়িয়ে যায়। কোনো ধরনের হট্টগোল ঠেলাঠেলি নেই। এখানে সবই সুন্দর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। এ রকম পরিবেশ অন্যান্য রেলস্টেশনে হওয়া প্রয়োজন। তাহলে রেল ভ্রমণের প্রতি যাত্রীরা আরও আগ্রহী হবেন।”

রেলস্টেশনে হাঁটতে আসা গৃহবধূ রিনা আক্তার বলেন, “এ রেলস্টেশন নিরাপদ। সবুজ গাছপালা বেষ্টিত পরিবেশে বেশ স্বচ্ছন্দবোধ করি। সে জন্যই এখানে প্রতিদিন হাঁটতে আসি।”

দর্শনা রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মীর মো. লিয়াকত আলী বলেন, “স্টেশনের চারপাশ খোলা ছিল। রাত হলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যেত। বর্তমান পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এখানকার কর্মচারীরা যথেষ্ট আন্তরিক। তাদের প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। রেলস্টেশনের চারপাশে গাছপালা থাকায় এই গাছে বিভিন্ন প্রজাতের পাখি বসে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে।ছায়া ঘেরা পরিবেশে মানুষ এখানে বিশ্রাম নেন। খুব ভালো লাগে। দেশের অন্য রেলওয়ে স্টেশনেও এমন পরিবেশ থাকলে যাত্রীরা রেল ভ্রমণে আগ্রহী হবে।”

Link copied!