• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা

ডিবির ৭ সদস্যের ১২ বছর করে কারাদণ্ড


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ১২:৪৯ পিএম
ডিবির ৭ সদস্যের ১২ বছর করে কারাদণ্ড

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করার মামলায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক ৭ সদস্যকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডিত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড,  অনাদায়ে আরও ৩ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর মধ্যে চাঁদাবাজির দায়ের ৭ বছর ও অপহরণের দায়ে ৫ বছর করে কারাদণ্ড এবং চাঁদাবাজির দায়ে ২ লাখ ও অপহরণের দায়ে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

দণ্ডিত আসামিরা হচ্ছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের ডিবির সাবেক সদস্য এসআই মো. আবুল কালাম আজাদ, এসআই মো. মনিরুজ্জামান, এএসআই মো. গোলাম মোস্তফা, এএসআই মো. ফিরোজ, এএসআই আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আজম এবং কনস্টেবল আল আমিন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম ফরিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ৭ সদস্য টেকনাফ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার মৃত হোসেন আহমদের ছেলে মো. আবদুল গফুরকে (৩২) শহরের একটি হোটেলের সামনে থেকে অপহরণ করে টেকনাফ নিয়ে যান । পুলিশ সদস্যরা অপহৃত মো. আবদুল গফুরকে মারধর করে ‘ক্রস ফায়ারে’ হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে মো. আবদুল গফুরের স্বজনেরা ডিবি পুলিশের সদস্যের ১৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি মো. আব্দুল গফুরের স্বজনেরা টেকনাফের লম্বরী সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে কর্মরত সেনা সদস্যদের জানান। টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে চেকপোস্টের সেনা সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের বহনকারী মাইক্রো বাসটি তল্লাশি করে ১৭ লাখ নগদ টাকা পান। এ সময় এসআই মো. মনিরুজ্জামান মাইক্রো বাস থেকে পালিয়ে গেলেও অন্য ৬ পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় মো. আবদুল গফুর বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর মুক্তিপণ আদায়কারী ৭ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত ৭ পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ৭ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মামলাটির অভিযোগ গঠন করে কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। 

Link copied!