ফেরি সংকট আর মন্থর গতিতে চলাচলে পাবনার কাজীরহাট ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দেখা দিয়েছে যানজট।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাজিরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাহবুবুর রহমান জানান, গত বুধবার থেকে রো রো ফেরি বেগম রোকেয়া ও ডাম্প ফেরি কপোতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। রো রো ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল ড্যাম্প ফেরি কলমিলতা দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাগবে এই নৌপথে ফেরি চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থার জন্য ঘাটের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন যাত্রী, চালক ও শ্রমিকেরা। কর্তৃপক্ষ দুটি ফেরি দিয়ে ঘাট সচল রাখার দাবি করলেও কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে কাজিরহাট-আরিচা নৌপথ।
কাজিরহাট ফেরিঘাটে দেখা গেছে, ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যানবাহনের চালকরা। দুরপাল্লার যাত্রীদের গরমে ছটফট করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ট্রাকগুলোর পণ্য পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চালকরা।
ঘাটে অবস্থানরত চালক বাবুল আক্তার জানান, তিনি রাজশাহী থেকে ডাল নিয়ে এসে ঘাটে তিনদিন ধরে আটকা রয়েছেন। তিনদিন ঘাটে অবস্থান করে তিনি চরম কষ্ট ও ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। লোকসান গুনতে হবে কয়েক হাজার টাকা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘাট কর্তৃপক্ষ পণ্য পরিবহনগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। একটি ফেরিতে মাত্র চার/পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রাক তোলায় এমন ঝটলার সৃষ্টি হচ্ছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এখানে অব্যবস্থাপনার শেষ নেই। এ কারণে ট্রাক চালকরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
কাজিরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিকল ফেরি দুটি মেরামতের জন্য আরিচা ঘাটে অবস্থান করছে। মেরামত শেষে যানবাহন পারাপারে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বিড়ম্বনা কাটানো সম্ভব হচ্ছে না। দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌপথের ফেরি এনে এখানে সংযোজনের মাধ্যমে সংকট কাটানোর সম্ভাবনাও আপাতত নেই।”
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “প্রতিটি ঘাটের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স প্রাইভেট কার ও জরুরি সেবার পরিবহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই পার করা হয়। সোমবার বিকেল থেকে এখন পর্যন্ত দুই পারে সাড়ে ৩ শতাধিক যানবাহন ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবার দুপুর নাগাত একটি ফেরি আমরা ঘাটে পেতে পারি।”





































