• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

৯ বছর ধরে খাঁচাবন্দী ১১ বছরের শিখা


রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১, ০৬:৩১ পিএম
৯ বছর ধরে খাঁচাবন্দী ১১ বছরের শিখা

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বফুল কাউন গ্রামের বাসিন্দা মদন ও চন্দনা দম্পতির প্রথম সন্তান শিখা রানী দাস। তবে, জন্মগ্রহণের এক বছর পর তার পরিবার বুঝতে পারেন শিশুটি আর দশটি শিশুর মতন স্বাভাবিক না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের মার্চ মাসে জন্ম গ্রহণ করে শিখা। জন্মের পর থেকে যে কেউ তাকে কোলে নিলে কামড় দেয় সে। সেই সঙ্গে হামাগুরি দিয়ে চলে যায় অন্যত্র। শিশুটিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য গ্রাম্য কবিরাজ থেকে শুরু করে দেশে এবং ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছেন সন্তানটির বাবা-মা। কিন্তু লাভ হয়নি কোনো। উপরন্তু শিশুটির চিকিৎসা করাতে জমানো টাকা ও পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেয় তার বাবা মদন দাস।

পরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শিশুটিকে প্রথমে শিকল দিয়ে বেঁধে ও পরে খাঁচাবন্দি করে রাখা শুরু করে পরিবারটি। এখন প্রতিদিন ১৫০ টাকার ওষুধ লাগে তার। যে কারণে তাকে নিয়ে চিন্তিত হত দরিদ্র পরিবারটি। তাই ১১ বছরের শিশুটি ৯ বছর ধরে জীবন কাটাচ্ছে খাঁচায় বন্দি অবস্থায়। 

নয় বছর ধরে খাঁচায় বন্দি জীবন কাটানো এই বাক, শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার পরিবার আজ সর্বশান্ত হয়ে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আশার আহ্বান জানিয়েছেন।

শিখার বাবা মদন কুমার দাস বলেন, “শিশুটিকে নিয়ে আমাদের দুঃখের শেষ নেই। যেখানে দরিদ্রতার কারণে আমার সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য সেখানে ওর চিকিৎসা করানো প্রায় অসম্ভব।”

মদন আরও বলেন, “সরকারিভাবে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। যাতে তিন মাস অন্তর অন্তর পান ২১০০ টাকা করে। এত সামান্য টাকা দিয়ে তার ব্যয়বহন করা কষ্টসাধ্য। তবে সে টাকাও পাচ্ছেন না নিয়মিত। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর আর কোনো টাকা পান নি।” 

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুবাইয়াত মো. ফেরদৌসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন এবং শিখা যাতে নিয়মিত তার ভাতা পাই সে বিষয়টিও নিশ্চিতের কথা বলেন।

শিশুটির এই সমস্যা নিয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহিম টিটনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায় মস্তিষ্কের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ না হওয়ায় শিশুটির এসকল সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিশুটির শতভাগ সেরে উঠা সম্ভব না হলেও দেশের বাইরে না নিয়ে দেশেও তার চিকিৎসা সম্ভব। বাংলাদেশ নিউরোসাইন্স অথবা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসাইন্স বিভাগে তার চিকিৎসা করালে সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠবে।”

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় শিশুটিকে একটি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই শিশুটির পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসন থেকে চিকিৎসা সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা করা হবে।”
 

Link copied!