• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

২০ লাখ মানুষের স্বপ্ন আটকে রয়েছে বগা সেতুতে


পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২১, ০৪:১৭ পিএম
২০ লাখ মানুষের স্বপ্ন আটকে রয়েছে বগা সেতুতে

চিঠি চালাচালিতেই ঝুলে আছে বাউফলের বগা সেতুর নির্মাণ কাজ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় একদিকে যেমন দুর্ভোগ কমছে না সাধারণ যাত্রীদের, অপরদিকে সেতু নির্মাণে সরকার সংশ্লিষ্টদেরকেই দুষছেন স্থানীয়রা।

লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর উপর নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বগা সেতু।

৯৮০মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প তালিকায় থাকা এই সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের ১১ মে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং চীনা রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ৫০০মিলিয়ন আরএমবি ইউয়ান অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই অর্থ সেতু, এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থ ব্যয় করবে সরকার। 

এরপর ২০১৮ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর ডিপিপি প্রনয়নের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চ. দ.) রওশন আরা খানম পটুয়াখালী জেলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জমি অধিগ্রহণ, জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন করতে কি পরিমান অর্থের প্রয়োজন হবে জানতে চেয়ে চিঠি পাঠান। তবে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য এলাকায় এখনো শুরু হয়নি এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ।

বাউফল, দশমিনা এবং গলাচিপা এই তিন উপজেলার ২০ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি, এই সেতু দ্রুত নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 

ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবদুল জলিল ঝন্টু বলেন, এই সেতুটি শুধু বাউফল উপজেলাকে দেশের উন্নয়নের মূল মহাসড়কে যুক্ত করবে এমনটি নয়। এই সেতুটি নির্মাণ হলে এর সুফল পাবে বাউফল, দশমিনা গলাচিপা উপজেলার কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। এই সেতুটি নির্মাণ হলে উপকূলীয় এই তিনটি উপজেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগের আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। পদ্মা এবং লেবুখালী সেতুর সুফল দক্ষিণ অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হলে দ্রুততার সঙ্গে এই সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালী সার্কেলের (সড়ক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমদাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে আমরা মন্ত্রণালয়ে এই সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে বেশ কিছু চিঠি পাঠিয়েছি। আগামী এক দুই মাসের মধ্যে চীনা প্রতিনিধি দলের সেতু নির্মাণের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। ওনাদের পরিদর্শন শেষে সেতু নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আশা করছি শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

Link copied!