• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সাড়ে ৪ বছর পর বের হলো হত্যার রহস্য


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২১, ০৪:৪৭ পিএম
সাড়ে ৪ বছর পর বের হলো হত্যার রহস্য

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর বেলকুচি গ্রামের বেকারি দোকানের কর্মচারি মো. শাহ আলমকে (৩৫) ত্রিভূজ পরকীয়ার জেরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুমের জন্য দূর্গম যমুনা নদীর চরের ছোনের ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর বুধবার (৪ জুলাই) সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ এ চাঞ্চল্যকর হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে। নিহত বেকারি দোকান কর্মচারি শাহ আলম বেলকুচি উপজেলার বওড়া গ্রামের মৃত জামাল মোল্লার ছেলে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীর (৩৫) সঙ্গে শাহ আলমসহ তিনজনের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি শাহ আলম জানতে পেরে ওই নারীকে গালাগাল করেন ও ওই দুইজনকে তার কাছে আসতে নিষেধ করেন। এতে ওই নারী এবং ওই দুই পরকীয়া প্রেমিক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন, এরপর তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে শাহ আলম ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে এসে তার বিছানায় ঘুমিয়ে পরেন। এ সুযোগে ওই নারী ও তার দুই পরকিয়া প্রেমিক বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে দূর্গম যমুনা নদীর চরের ছোনের ভিতরে ফেলে দেয়, এ ঘটনার দুইদিন পর ২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি বেলকুচি থানা পুলিশ যমুনার চরের ছোনের ভিতর থেকে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা শিরিনা বেগম বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। 

বেলকুচি থানা পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টার পর এ হত্যা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়ে সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করে। এরপর সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার কামাল হোসেনের সার্বিক দিক নির্দেশনায় সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাখাওয়াত হোসেন মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এ হত্যা রহস্য উদঘাটনের কাজ শুরু করেন।

এরপর তিনি তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি মো. জুলহাস ওরফে জুলুকে (৫৭) গত ৩ আগস্ট রাতে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এরপর তাকে বুধবার দুপুরে (৪ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ফলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হত্যার রহস্য উন্মেচন হয়।

আদালতে জুলহাস বলেন, “ত্রিভূজ পরকীয়া প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে সহযোগিদের নিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর যমুনার চরের ছোনের ভেতর ফেলে দেই।”

Link copied!