• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

মোশতাকের ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২১, ০৭:০৫ পিএম
মোশতাকের ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার ৩নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান ওই গ্রেপ্তরি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় আদালত ইশতিয়াককে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় দাউদকান্দি থানার ওসি নজরুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পলাতক থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জাল জালিয়াতি করে পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি বিক্রিসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, খুনি মোশতাকের বাবা খন্দকার কবির উদ্দিন আহামেদসহ পূর্ব পুরুষরা ছিলেন আলেম ও হাক্কানী পীর। খন্দকার কবির উদ্দিনের পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়ে। মৃত্যুকালে কবির উদ্দিন বিশাল সম্পত্তি রেখে গেছেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কবির উদ্দিনের কিছু সম্পত্তি কল্যাণমূলক কাজের জন্য ট্রাস্ট্রের নামে লিখে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওয়ারিশান সূত্রে বংশের সকল সদস্যরা বাকি সম্পত্তির মালিক হলেও কবির উদ্দিনের সপ্তম সন্তান খুনি মোশতাকের একমাত্র ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবু বংশের সকল সদস্যদের সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছেন। শুধু তাই নয় খন্দকার কবির উদ্দিনের নামে ট্রাস্টের সঘোষিত চেয়ারম্যান হয়ে বাবু ওই স্টেটের কার্যালয়ে নিজের এবং স্ত্রী সন্তানদের ছবি টানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কবির উদ্দিনের অন্যসব ওয়ারিশগণকে ওই সম্পত্তি এবং বাড়িসহ মাজারে প্রবেশ করতে দেয় না ওই খুনির সন্তান বাবু। ট্রাস্ট এবং দাদার সম্পত্তি দখলে রাখতে মোশতাক ছেলে এলাকায় একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কানাডায় বসে ওই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। এরই মধ্যে বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল এবং ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা এবং স্টেটের উত্তরাধিকারীর অংশিদারিত্ব পেতে কবির উদ্দিনের ওয়ারিশ খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার গত বছরের শেষের দিকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মোশতাকের ছেলে ইশতিয়াক, নাতি ইফতেখার আহমেদ শাদসহ অভিযুক্ত কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় মোশতাকে ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্ততারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, খন্দকার ইশতিয়াক আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছেন। তিনি কানাডায় বসে দশপাড়া এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছেন। আমাদের ওয়ারিশদের স্বাক্ষর জাল করে বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। এছাড়া আরো কিছু সম্পত্তি বিক্রির পাঁয়তারা করছে। তার নির্দেশে এসব জালিয়াতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মোশতাকের বাড়ির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন।

আহাম্মেদ সারোয়ার আরও বলেন, কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিনই মোশতাকের ছেলের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে থাকেন। কানাডায় বসে ওই কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই বাহিনী নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার আধিপত্য ধরে রেখেছেন মোশতাকের ছেলে ইশতিয়াক।

কাজী রেহা কবির বলেন, খুনি মোশতাক আমার নানার পরিবারের সদস্য হলেও আমরা তাকে প্রাণভরে ঘৃণা করি। সবশেষ গত বছর মাকে নিয়ে খন্দকার কবির উদ্দিনের মাজার শরীফ জিয়ারত করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে মোশতাকের ছেলের কেয়ারটেকারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা যতটুকু জানি মামলায় অভিযুক্ত আসামি খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু বিদেশে পালাতক আছেন। তারপরেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি হাতে পেলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!