• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত


ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২১, ০২:৪৯ পিএম
নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

ফরিদপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। 

গত ২৪ ঘণ্টায় (২৩ থেকে ২৪ আগস্ট) গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে ফরিদপুর সদরের তিনটি ইউনিয়নের পাশাপাশি চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি এবং সদরপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, এসব পানিবন্দী এলাকার মানুষ সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন নিজেদের খাদ্য ও গোখাদ্য নিয়ে। যদিও সরকার থেকে যেসব খাবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে ফরিদপুর সদর এলাকার পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেশি। এসব গ্রামের অনেক বাড়ির উঠান তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ছে।

চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছুরাপ খান বলেন, “একে তো ঘরবাড়িতে পানি উঠে আইছে। তার ওপর আবার নদী ভাঙতেছে। আতঙ্কে রাতে ঘুমাইতে পারি না। গত বছর ভাঙনে আমার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদী কাইরা নিছিল। তারপর নতুন করে ঘর বাঁধছিলাম। এবার ঘরবাড়ি নদীতে গেলে পরিবার নিয়ে গাছতলায় থাকতে হবে। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নাই।”

সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, “গত রোববার (২২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন থেকে আমার ইউনিয়নে গোখাদ্য হিসেবে ২৯ বস্তা খাবার পেয়েছি। অথচ আমার ইউনিয়নের পানিবন্দী বাসিন্দাদের প্রায় প্রত্যেকেই কয়েকটি করে গরু-ছাগল লালন পালন করেন। যে পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছি, তাতে প্রতি পরিবারে পাঁচ কেজি পরিমাণ গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে। এই পরিমাণ খাবার একটি গরুর এক বেলাও ঠিকমতো হয় না। এতে একটি পরিবার তার কয়েকটি গরুকে কী খাবার দেবে?”

এ ছাড়াও পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় চরভদ্রাসন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে। উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ৫০০ পরিবার, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের ১০০০ পরিবার, চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের ৩০০ পরিবার এবং চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের ২৫০টি পরিবার নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বাড়ায় সদরপুরের দিয়ারা নাড়কেলবাড়িয়া ও চর নাসিরপুর ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ২ হাজার ৪০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমর ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা কমে আসছে। আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত পানি বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এরপর কয়েকদিন স্থিতিশীল থেকে পানি কমতে শুরু করবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, পানিবন্দীদের সহায়তায় কাজ করছে প্রশাসন। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 

Link copied!