• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল বিভাগ

দুই বছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয়


পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১, ১১:২৮ এএম
দুই বছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয়

ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন থেকে গত দুই অর্থ বছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগ। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলেও রেলে পণ্য পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে আমদানিকারকদের।

রেলের পশ্চিম জোনের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে পশ্চিম জোনের পাকশী বিভাগে পণ্যবাহী ট্রেন থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৪৭ কোটি টাকাই এসেছে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন থেকে। রেলের পশ্চিম জোনের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের অধীনে মোট আটটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পথ থাকলেও রেলের পশ্চিম জোনের পাঁচটি সীমান্ত পথ দিয়েই বিদেশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। পশ্চিম জোনের এমন সাফল্যের পর বন্ধ আন্তর্জাতিক সব সীমান্ত পথ দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আমদানিকারকরা বলছেন, শুধু সীমান্ত পথ উন্মুক্ত করলেই হবে না। এর সঙ্গে সঙ্গে রেল স্টেশনগুলো আধুনিকায়ন, আমদানি পণ্য পরিবহন ও পণ্য খালাসের জন্য পর্যাপ্ত ইয়ার্ড তৈরি, ওজন স্কেল স্থাপনসহ আমদানির সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

আমদানীকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা না হলেও, ট্রেনে ঝামেলা ছাড়া পণ্য পরিবহন ও অপেক্ষাকৃত কম খরচের জন্য আমদানিকারকদের রেলে পণ্য আমদানির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। রেলে আমদানি পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে খরচ হয় মাত্র ৩৬৭ টাকা।

রেলের পাকশী বিভাগের দর্শনা, বেনাপোল, রহনপুর ও চিলাহাটি এবং লালমনিরহাট বিভাগের বিরল স্টেশন দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পণ্য আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। পশ্চিম জোনের ১৭টি স্টেশনে আমদানি করা পণ্য খালাস করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ স্টেশনেই নেই আমদানি পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা।

পশ্চিম জোনের অন্যতম বড় স্টেশন ঈশ্বরদী। এখানে আমদানি পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় আমদানিকারকদের। কৃষি পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আর আর ফিডের প্রতিনিধি মানিক হোসেন বলেন, “দুই বা তিনটি ট্রাকে এই স্টেশন থেকে পণ্য খালাস করা যায়। স্টেশনে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় পণ্যবাহী ট্রেন খালাস করতে দীর্ঘদিন সময় লেগে যায়।”

মানিক জানান, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে তার প্রতিষ্ঠান ৫২টি ভারতীয় ওয়াগনে ৫০০ মেকি টনের বেশি খাদ্য পণ্য আমদানি করে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আমদানি করা পণ্যগুলো খালাসে তাদের সক্ষমতা থাকলেও স্টেশনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় সময় লেগে যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ দিন।

স্টেশন এলাকায় রেলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও এসব জায়গা বেদখল হয়ে রয়েছে। অথচ পার্কিংয়ের জায়গার অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন আমদানিকারকরা। পণ্য খালাসের জন্য রেলওয়ের ইয়ার্ড সম্প্রসারণসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে বিদেশি পণ্য পরিবহন আরও বাড়বে বলে জানান আমদানিকারকরা।

এ ব্যাপারে রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতোমধ্যে রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, “আমদানিকারকদের স্বার্থে রেল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই যেসব স্টেশনে পণ্য খালাস হয় সেগুলোর আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া যমুনা নদীতে চলমান রেল সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলে পণ্যবাহী ট্রেন সরাসরি পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে।”
 

Link copied!