• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১, ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দুই কবজি গুঁজে লিখে স্বপ্নজয়ের সংগ্রামে নিপা


লোটন আচার্য্য, সাভার
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২১, ০৭:৪২ এএম
দুই কবজি গুঁজে লিখে স্বপ্নজয়ের সংগ্রামে নিপা

প্রবল ইচ্ছা আর আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে দুই হাতে কলম গুঁজে লেখেন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। স্বপ্নজয়ের ইচ্ছা থেকেই সংগ্রাম শুরু করে জান্নাতুল ফেরদৌস নিপার। আঙুলবিহীন দুই হাতের মধ্যে কলম গুঁজে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা দেন। করেছেন ভালো ফলাফলও। জেএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন ৪.৬৯ জিপিএ। আর ২০২০ সালে আশুলিয়ার গাজীরচট হাজী মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। সেখানেও কৃতিত্বের সঙ্গে ৪.৭২ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এভাবেই নিপা সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে নিয়ে।

 
জান্নাতুল ফেরদৌস নিপা নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার মানিকপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তিনি তার মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ায় পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বসবাস করেন। সেই সঙ্গে সাভারের আশুলিয়ায় বেপজা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

২০১৪ সালে ১৫ জানুয়ারি মাসে নিপার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক তারে হাত জড়িয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন নিপা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন দুই মাস। কিন্তু চিকিৎসকরা অবস্থার উন্নতি না দেখে হাত কেটে বাদ দিতে বলেন। অন্যথায় হাতের অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা। এরপর  চিকিৎসকের কথামতো অপারেশনের মাধ্যমে হাতের পাঞ্জা বাদ দেওয়া হয় নিপার। 

কিন্তু নিপার অদম্য ইচ্ছে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।  তখন নিপা পিইসির শিক্ষার্থী। এক সহযোগী নিয়ে পিইসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে তিনি। তার পর কবজি দিয়ে লেখার সংগ্রাম শুরু করে। অনেক কষ্টে আয়ত্ত করে কবজি দিয়ে লেখার।

জান্নাতুল ফেরদৌস নিপা বলেন, ‘আমার যখন হাত কেটে ফেলে, তখন অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। পরে নিজেই কবজি দিয়ে লেখার অনুশীলন করি। এখন অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে লিখতে পারি।’ 
 
বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা তার। দরিদ্র ও গরিব মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেবেন। মানুষের সুখ-দুঃখের পাশে দাঁড়াতে চান বলেও জানান তিনি। 

জান্নাতুলের মা নিলুফা বেগম জানান, মেয়ের দুর্ঘটনার দুই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। এরপর মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন সাভারে। তারপরই ঘটল এমন একটি দুর্ঘটনা। সে সময় অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সাথে আর্থিক সংকটের মধ্যে মেয়ের পড়াশোনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরে উপজেলা চেয়ারম্যান পড়াশোনার কিছুটা ব্যয় বহন করছে বলে জানান তিনি।

Link copied!