• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

টেকনাফের হোয়াইক্যং বনে বন্য হাতির বাচ্চা প্রসব


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১, ১১:৪৮ এএম
টেকনাফের হোয়াইক্যং বনে বন্য হাতির বাচ্চা প্রসব

কক্সবাজারে অধিকাংশ রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠেছে বন্য হাতির আবাসস্থলে। ফলে খাদ্য, আবাসস্থল নিরাপদে চলাচলসহ নানান সংকটের মুখে পড়েছে এসব হাতি। তবে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আরও একটি বাচ্চা হাতির জন্ম দেওয়ার সুখবর দিয়েছে বন বিভাগ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ আগস্ট) টেকনাফের হোয়াইক্যং বনে একটি মা হাতি বাচ্চা প্রসব করে। সূত্র আরও জানায়, গত এক বছরে প্রায় ১৬টি বাচ্চা হাতির জন্ম হয়েছে। হাতির আবাসস্থল দখল করে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আগ্রাসনের মধ্যেও হাতির বাচ্চা জন্ম দেওয়ার খবরে পরিবেশবাদীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন বনাঞ্চলে গত এক বছরে এক বছর বয়সী প্রায় ১৬টি বাচ্চা দেখা গেছে। হিমছড়ি, ধোয়াপালং, পানেরছড়া, ইনানী, হোয়াইক্যং, শীলখালী রেঞ্জের বনাঞ্চলের পকেটে এসব বাচ্চা প্রসব করে মা হাতি।

বন বিভাগের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সর্বশেষ ২ আগস্ট কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং বিটের মংলা জাইন চাকমার ঘোনা এলাকায় বনের অভ্যন্তরে একটি হাতি বাচ্চার জন্ম দেয়। মা ও বাচ্চা হাতিটি সুস্থ আছে। তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে হোয়াইক্যং রেঞ্জ সিপিজি সদস্যদের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৭ সালের সর্বশেষ জরিপে কক্সবাজারের এই দক্ষিণ বনে মোট এশিয়ান হাতি রয়েছে ৬৩টি। এসব হাতি থেকে প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শেখ নাজমুল হুদা বলেন, “হাতির আবাস্থলের এসব এলাকায় আগের পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখনো হাতির নিরাপদ আবাস্থল জোন হিসাবে রয়েছে এসব বনাঞ্চল। খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ চলাচল এবং সহনীয় পরিবেশ রয়েছে বলে এখনো হাতিরা এসব এলাকায় নির্বিঘ্নে বিচরণ করছে। একই সঙ্গে হাতি বাচ্চা প্রসব করছে।”

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, “কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৬৩টি এশিয়ান হাতি রয়েছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এসব হাতির আবাসস্থলে। ফলে এসব হাতির জীবন সংকটে পড়েছে। তাদের চলাচলের করিডোর বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে হাতি বাচ্চা প্রসব করার খবর অত্যন্ত সুখকর। এই অবস্থায় হাতিদের যে আবাস্থল রয়েছে তা নিরাপদ রাখতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানাভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Link copied!