• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ঘাট সরাতে যত দেরি হবে, তত ঝুঁকিতে থাকবে পদ্মা সেতু


মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২১, ০৭:৩০ পিএম
ঘাট সরাতে যত দেরি হবে, তত ঝুঁকিতে থাকবে পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্ম সেতু নিরাপদ রাখা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য ফেরিঘাট সরিয়ে ফেলার দারি দক্ষিণাঞ্চলবাসীর।

শিমুলিয়া-নাওডোবা অথবা শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দিতে ঘাট সরালে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে যাবে; ফেরির তেল খরচও অর্ধেক কমে আসবে বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে ফেরিঘাটটি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিরকান্দি অথবা নাওডোবাতে সরিয়ে নিলে সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে পদ্মা সেতু। পাশাপাশি নৌপথের দূরত্ব কমে গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফেরির তেল খরচও অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে সরকারের বেঁচে যাবে কোটি কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি থেকে ফেরিঘাটটি আরও এক কিলোমিটার পথ পেছনে ফেলে বাংলাবাজারে স্থাপন করা হয়। এতে আগের চেয়ে এই নৌপথটির দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। 

গত এক মাসে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পিলার সঙ্গে চার দফায় বিভিন্ন ফেরির ধাক্কা লাগার কারণে এই নৌপথটি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। তাই পদ্মা সেতুকে নিরাপদ রাখার জন্য ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নতুন নৌপথ পরিদর্শন করেন।

প্রাথমিকভাবে মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে ঘাটটি সরিয়ে শরীয়তপুরেরর জাজিরা উপজেলার মাঝিরকান্দিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মা সেতু নিরাপদ রাখতে অতিদ্রুত বাংলাবাজার থেকে ঘাট সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন। যতই দেরি হবে, ততই ঝুঁকির মুখে থাকবে পদ্মা সেতু।

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতুর এই পদ্মা সেতু। সেতুটি যাতে নিরাপদ থাকে, তার জন্য আরও আগেই এই ঘাটটি সরিয়ে ফেরি চালান উচিত ছিল। ঘাটটি মাঝিরকান্দি অথবা নাওডোবায় স্থানান্তর করে শিমুলিয়া হয়ে ফেরি পারাপার করা হয়; তাহলে নৌপথের দূরত্ব বর্তমান দূরত্বের চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসবে। আর ফেরির তেল খরচও কমে যাবে অর্ধেক। এতে সরকারের প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা খরচ কম হবে। আমি দাবি করছি, দেরি হলেও যখন প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘাট সরিয়ে ফেলার; তাই আর দেরি না করে সরিয়ে ফেলা হোক।”

মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য এম আর মুর্তজা বলেন, “ফেরিঘাটটি গত বছরই কাঁঠালবাড়ি থেকে সরিয়ে আরও এক কিলোমিটার পেছনের দিকে সরিয়ে না এনে পদ্মা সেতুর পূর্ব পাশে কোনো একটি স্থানে নিলে খুব ভালো হতো। এতে সেতু নিরাপদ থাকতো, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমত এমনকি ফেরির জ্বালানি খরচও কমে যেত। তারপরও সরকারের উচিত পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও যাত্রীদের পথ কমে আসবে কোনো স্থানে ঘাট নিলে সেই ব্যবস্থা করা।”

বাংলাবাজার ফেরি ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘাট সরিয়ে নেওয়ার এখনো অফিশিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পদ্মা সেতু নিরাপদ রাখতে ঘাট সরিয়ে ফেলার আলোচনা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেখানে ভালো মনে করবে, সেখানেই ঘাট হবে। আমরা সেখান থেকেই ফেরি চলাচল করাব। তবে ঘাট সরানোর সিদ্ধান্ত এখনো অফিশিয়ালি আমি শুনিনি।”

তবে ঘাট সরানোর আলোচনা চলছে বলে মন্তব্য করেন এই বাংলাবাজার ঘাট কর্মকর্তা।

Link copied!