পাঁচ টাকা নোটের ঐতিহ্যবাহী ‍‍‘কুসুম্বা মসজিদ‍‍’


নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২২, ১০:৪৯ এএম
পাঁচ টাকা নোটের ঐতিহ্যবাহী ‍‍‘কুসুম্বা মসজিদ‍‍’

গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবাহী মান্দার ঐতিহ্যবাহী শাহী কুসুম্বা মসজিদ। বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত ছবিটি ঐতিহাসিক এই মসজিদের। নওগাঁ জেলার অন্যতম প্রধান নিদর্শন এটি। উপজেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ও কারুকার্যসম্পন্ন এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি অবস্থিত।

১৫৫৮ সালে সোলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা এবং  চওড়া ৪২ ফুট। দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটি সম্পূর্ণ গ্রানাইট দিয়ে তৈরি। লোকমুখে জানা যায়, কুসুম্বা মসজিদটি তৈরিতে সময় লেগেছিল প্রায় ৫৬ বছর।

কুসুম্বা মসজিদের একদম নিচে রয়েছে সেই সময়ে খননকৃত একটি সুবিশাল দিঘি। মুঘল সম্রাট আলাউদ্দীন হোসাইন শাহ্ তার স্ত্রী কুসুম বিবির নামানুসারে মসজিদসহ ওই এলাকার নাম রাখেন কুসুম্বা। সেই থেকেই গ্রামটির নাম হয় কুসুম্বা।

নিপুণ কারুকার্যময় এই মসজিদ ও সুবিশাল দিঘি দেখতে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান প্রায় শত শত দর্শনার্থী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসবিদরা আর ঐতিহ্যপ্রেমীরাও ভিড় করেন কুসুম্বা মসজিদ পরিদর্শনে। আবার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুদের নিয়েও অনেকে আসেন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখতে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন প্রাক্‌-মুসলিম আমলের প্রাচীন এই কীর্তির মাঝে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য অজু ও গোসলের ব্যবস্থাসহ থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থাও  রয়েছে এখানে। দিঘিতে নামার জন্য আছে দুটি শানবাঁধা ঘাট। যার একটি ঘাটে নামে পুরুষ ও অন্যটায় নামে নারীরা। এ ছাড়া মসজিদের চারপাশে মুখরোচক খাবার ও বাহারি পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা।

কুসুম্বা মসজিদে প্রতিদিনই মানত করতে ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ। মানতকারীরা মসজিদের নিচের সুবিশাল দিঘিতে গোসল করেন এবং মনের ইচ্ছা পূরণে আল্লাহ ঘর মসজিদে মানত করেন।

সেই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন হোসেন বলেন, ”মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে মানত পূরণে অনেকে আসেন। তারা মসজিদে নগদ অর্থ, হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া, ডাব-কলাসহ বিভিন্ন খাবার দান করেন।"

মসজিদে ঘুরতে আসা নিয়ামতপুর উপজেলার  বাহাদুর ইউনিয়নের  ছাতমা  গ্রামের জরিমবক্স মন্ডল বলেন, “কুসুম্বা মসজিদে প্রায়ই ঘুরতে আসি। কারুকার্যময় এই মসজিদ দেখতে খুব সুন্দর।“

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে এখানে পুলিশও সদা প্রস্তুত থাকে। মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, “দর্শনার্থীদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। শুক্রবার লোক বেশি হয়। সেই সময় গোয়েন্দা নজরদারিও থাকে।”

Link copied!