বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচেই নিজের পরিণত ফুটবল দিয়ে নজর কাড়ছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কোচ কার্লো আনচেলত্তির।
ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রিয়াল মাদ্রিদে লম্বা সময় পার করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার অধীনেই নিজেকে পরিণত হিসেবে গড়ে তুলেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবার জাতীয় দলে গুরু-শিষ্যের মেলবন্ধনে জমে উঠেছে লড়াইয়ের রসায়ন।
ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েই ভিনিসিয়ুসের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন আনচেলত্তি। বাঁ প্রান্তে রিয়াল তারকাকে আটকে না রেখে তাকে খেলাচ্ছেন আরও ভেতরের দিকে। ফলে ভিনিসিয়ুস কেবল ড্রিবলিং নয়, আক্রমণ তৈরি, গোলের সুযোগ সৃষ্টি এবং ফিনিশিংসহ সব ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর হয়ে উঠেছেন।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলও মিলছে মাঠে। গোলপোস্টের কাছাকাছি থাকায় বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চারটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস, আছে এক এসিস্ট। একই সঙ্গে তার অবস্থান বদলের কারণে বামপ্রান্ত দিয়ে ডগলাস সান্তোস সহজে উঠে যেতে পারছেন। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতা ও ব্রুনো গিমারায়েসের সঙ্গে সমন্বয়ও হচ্ছে আরও নিখুঁতভাবে।
শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও আগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব নিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। জাপানের বিপক্ষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বল পুনরুদ্ধার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখন তিনি শুধু একজন উইঙ্গার নন, বরং দলের জন্য পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আনচেলত্তির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়াই তার এই পরিবর্তনের বড় ভিত্তি।
ব্রাজিল হয়তো এখন আগের মতো ‘জোগো বনিতো’র ঝলক দেখাতে পারছে না। কিন্তু আনচেলত্তির অধীনে দলটি হয়েছে আরও সংগঠিত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ফলমুখী। সেই দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য লুকিয়ে আছে কোচ আনচেলত্তির কৌশলগত ছোঁয়ায়।
































