জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩

জুনে সারা দেশে মব সহিংসতার ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।


এর আগের মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত ৭১ জন। সে হিসাবে আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
সংস্থাটির দাবি চোর সন্দেহ, ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গুজব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এসব ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত নন, নিরপরাধ মানুষও নিহত ও আহত হচ্ছে।


এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মব সহিংসতার শিকারদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, পথচারী এবং বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনতা হামলা চালিয়েছে। কোথাও বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে।


মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি– এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।


এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ছয়জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩ জন। এ ছাড়া জুনে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ৯ জন মৃত ও দুজন জীবিতসহ ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। একই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৩ জন।

Link copied!