উদ্বোধনের চার বছরপূর্তির আগেই পদ্মা সেতু থেকে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। একই সময় আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
পরিশোধ করা হয়েছে ৪৩৬ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট। কোনো কিস্তিই বকেয়া নেই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়।
২৬ জুন থেকে সেতু যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল হিসেবে মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা আদায় হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
একই সঙ্গে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোট ১৪০ কিস্তির মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনইএফ) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং মাওয়া-জাজিরা অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের কাজ পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত নকশা ও নির্মাণপ্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

































