ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এর একটি ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী রাউন্ডে তথা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পাবে। এর আগে রাউন্ড অব ৩২-এর আরেকটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ৯৬ মিনিটের নাটকীয় গোলে জাপানকে হারিয়ে ইতোমধ্যে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রেখেছে সেলেসাওরা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে আইভরি কোস্ট এবং নরওয়ে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। ফলে আজকের এই নকআউট ম্যাচটি দুই দলের জন্যই একটি ঐতিহাসিক প্রথম সাক্ষাৎ হিসেবে রূপ নিতে যাচ্ছে। গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্ট বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইকুয়েডর ও কুরাসাওকে পরাজিত করে এবং জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে হেরে গ্রুপ ‘ই’র রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
অন্যদিকে, নরওয়ে তাদের গ্রুপ ‘আই’র ম্যাচগুলোতে ইরাক ও সেনেগালের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে, যদিও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের দ্বিতীয় সারির দল ফ্রান্সের কাছে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়। তবে আফ্রিকান দলগুলোর বিরুদ্ধে নরওয়ের সামগ্রিক রেকর্ড বেশ আশাব্যঞ্জক, যেখানে ১৯টি ম্যাচের মধ্যে তারা ৯টিতে জয় এবং ৮টিতে ড্র করেছে। তাদের সর্বশেষ আফ্রিকান প্রতিপক্ষ সেনেগালের বিরুদ্ধেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
সাম্প্রতিক ফর্ম ও দলগত শক্তি বিবেচনায় আইভরি কোস্ট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে মাঠে নামবে কারণ তারা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের দুটিতেই জয় পেয়েছে। কোচ এমার্স ফায়ের অধীনে আইভরি কোস্ট দলটিকে বেশ সুসংগঠিত এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী দেখাচ্ছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার নিকোলাস পেপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, যিনি কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে একাই দুটি গোল করেছিলেন।
তাছাড়া আইভরি কোস্টের সাম্প্রতিক সময়ে প্রীতি ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারানোর মতো বড় অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা আজ তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ফ্রাঙ্ক কেসি আইভরি কোস্টের হয়ে ট্রানজিশনগুলো পরিচালনা করবেন, যার মূল দায়িত্ব থাকবে নরওয়ের আক্রমণাত্মক পাসিং লেনগুলো বন্ধ করা।
বিপরীত দিকে, ফ্রান্সের কাছে শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই ম্যাচে কোচ স্তালে সোলবাকেন তার মূল একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনেছিলেন এবং দলের দুই প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডকে পুরোপুরি বিশ্রামে রেখেছিলেন। নিজেদের প্রথম সারির দল নিয়ে খেলা ৮টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সবকটিতেই জিতেছিল নরওয়ে। দলের প্রাণভোমরা হালান্ড এই গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে চার গোল করে ফেলেছেন।
আজ সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা হালান্ড ও ওডেগার্ড মাঠে নামবেন নতুন উদ্যমে, যাদের রুখতে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডারদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে নরওয়ের মূল ভাবনার জায়গা তাদের দুর্বল রক্ষণভাগ, কারণ গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তারা গোল হজম করেছে।
কৌশলগতভাবে আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে চাইবেন মাঝমাঠের জায়গা সংকুচিত করে নরওয়ের আক্রমণ রুখতে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে পেপেকে ব্যবহার করতে। অন্যদিকে নরওয়ের কোচ সোলবাকেন তার চেনা হাই-প্রেসিং ও বল পজিশন ভিত্তিক ফুটবলে ফিরে আসবেন। মাঠের লড়াইয়ে ফ্রাঙ্ক কেসি বনাম মার্টিন ওডেগার্ডের দ্বৈরথ এবং পেপের গতির সাথে নরওয়ের লেফট-ব্যাকের লড়াই ম্যাচটির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দেবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



































