ফুটবলে জিততে হলে দল হিসেবেই খেলতে হয়। কিন্তু দিন শেষে কিছু মানুষ রক্তমাংসের সীমানা পেরিয়ে মহাতারকা হয়ে ওঠেন, যাঁদের স্পর্শে ম্যাচের ভাগ্যরেখা বদলে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে ঠিক এই দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন সেরা তারকারা। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাকালেই সেটা স্পষ্ট।
৩ ম্যাচে ৬ গোল করে এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি। তাঁর ঠিক পেছনেই ৪টি করে গোল নিয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, আর্লিং হলান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩ ম্যাচে ৩ গোল নিয়ে দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। এমনকি ৪১ বছর বয়সেও ২ গোল করে তাঁদের সবার সঙ্গে লড়াইয়ের আভাস দিয়ে রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও।
প্রশ্ন হলো, কোন দলটি তাদের মহাতারকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল? ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে দলগুলোর সব পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ‘ইএসপিএন গ্লোবাল স্পোর্টস রিসার্চ’ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে এই প্রশ্নের উত্তর।
আর্জেন্টিনা কি তবে ওয়ান-ম্যান টিম? এই বিশ্বকাপে তাদের ৮টি গোলের মধ্যে ৬টিই এসেছে মেসির পা থেকে। বিশ্বকাপে টানা ৭টি ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় চমক হলো—মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার জয়ের হার এবং মেসিকে নিয়ে জয়ের হার একদম সমান!
গত বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মেসিকে নিয়ে খেলে যেমন ৮৩ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে, তাঁকে ছাড়াও ঠিক ৮৩ শতাংশ ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে। অবশ্য তিনি মাঠে থাকলে গোলের হার বাড়ে—মেসি মাঠে থাকাকালীন আর্জেন্টিনা গোল করেছে ৫৮টি, আর না থাকলে ৩৫টি। ২০২২ সালের পর ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করে দলের মোট গোলের ২৭ শতাংশে নিজের নাম লিখেছেন মেসি। তবে বাস্তবতা এটাই যে মেসিকে ছাড়াও আর্জেন্টিনা মাঠের লড়াইয়ে সমান সমীহজাগানিয়া দল।


































