• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, ৬ মুহররম ১৪৪৫

যে কারণে বাড়ছে রাসেলস ভাইপার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৪, ০২:২৩ পিএম
যে কারণে বাড়ছে রাসেলস ভাইপার
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের ২৭টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রাসেলস ভাইপার। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক। এটি একটি বিষধর সাপ। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে দেখা না গেলেও নতুন করে বেশ কয়েকটি জেলায় এ সাপের আবির্ভাব ঘটেছে। চট্টগ্রামের ভেনম রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে। সম্প্রতি ঢাকার কাছে দোহারের চরাঞ্চলেও এ সাপের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ভেনম রিসার্চ সেন্টার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, ভুটান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, চীন ও মিয়ানমারেও এই ভয়ংক বিষধর সাপের উপস্থিতি রয়েছে। এ সাপ সাধারণত ঘাস, ঝোপ, বন, ম্যানগ্রোভ ও ফসলের ক্ষেতে বাস করে।

বাড়ছে যে কারণে
প্রাণী গবেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এই সাপের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো। আগে কৃষিজমিতে বছরে একবার বা দুইবার ফসল ফলানো হতো এবং বাকি সময় পানির অভাব থাকায় জমি পরিত্যক্ত পড়ে থাকত। ৯০-এর দশকে সেচ পদ্ধতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো শুরু করেন এবং জমি কম সময় পরিত্যক্ত থাকতে শুরু করে।

সারা বছর ক্ষেতে ফসল থাকায় জমিতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা এই সাপের প্রধান খাদ্য। আর ইঁদুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাপ পর্যাপ্ত খাদ্য পেতে শুরু করে এবং বংশবিস্তারের জন্য যথাযথ পরিবেশ পেতে থাকে। বেশির ভাগ সাপ ডিম পাড়লেও রাসেল ভাইপার বাচ্চা দেয়। গর্ভধারণ শেষে স্ত্রী রাসেল ভাইপার সাধারণত ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।

কোনো কোনো গবেষকের মতে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়ার ফলে ভারতের নদ-নদী থেকে ভেসেও এই সাপ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এখন পর্যন্ত পদ্মা অববাহিকায় এই সাপ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। যেসব জায়গায় এই সাপ পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ জায়গাতেই কচুরিপানা রয়েছে, আবার কচুরিপানার মধ্যেও এই সাপ পাওয়া গেছে। কাজেই গবেষকদের ধারণা, কচুরিপানার ওপরে ভেসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এই সাপ বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে।

Link copied!