• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০, ২০ শা’বান ১৪৪৫

ডেঙ্গুতে ডাবের ডিগবাজি, এক পিস ১৮০ টাকা


বিজন কুমার
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৩, ০৯:৩৪ পিএম
ডেঙ্গুতে ডাবের ডিগবাজি, এক পিস ১৮০ টাকা
রাজধানীর মুগ্দা হাসপাতালের সামনে ডাব বিক্রেতা ও ক্রেতা। ছবি-সংবাদ প্রকাশ

রাজধানী ঢাকায় বড় আতংক এখন ‘ডেঙ্গু’। এর বাস্তবচিত্র ঢাকার হাসপাতালগুলো। রোগীর চেয়ে শয্যা কম। তাই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। ডেঙ্গু সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীতে বেড়েছে ডাবের চাহিদা। কারণ এই ফলটি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বিশেষ এক পথ্য। অনৈতিক হলেও সুযোগটি হাতছাড়া করছেন না ব্যবসায়ীরা। দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়িয়েছে একেকটি ডাবের দাম। রোগীর স্বজনদের পকেট কেটে চলছে ধুন্দুমার ব্যবসা। 

ডাবের এই বাড়তি মূল্য যোগাতে বিপাকে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের অজুহাত, ‘ডাবের সরবরাহ কম’।

শনিবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের সামনে ফুটপাতে বসা ডাবের দোকানগুলো ঘুরে জানা যায়, এমন পরিস্থিতি। এখানে এক পিস বড় মাপের ডাব সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। পূর্বে (কিছুদিন আগে) যেখানে একই মাপের ডাব বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। তার আগে তো আরও কম ছিল।

সর্বনিম্ন ছোট মাপের ডাবের বাজার দর বর্তমানে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। যা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৬১ হাজার ৪৭৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৯৩ জনের।

হাসপাতাল ঘুরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ব্যক্তি যখন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তখনই তার শারীরিক সমস্যা শুরু হয়েছে, জ্বর এবং বমি দিয়ে। পরে শরীর ব্যাথা ও খাবার খেতে না পেরে সবশেষে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। 

এমন অবস্থায় শরীরের লবণের চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক যোগান হিসাবে ডাব অন্যতম একটি উপাদান। ফলে বাজার দর বেশি হলেও ডাবের দোকানে ছুটছেন রোগীর স্বজনরা। আর অভিযোগ করছেন, “ডেঙ্গু প্রকোপে ডাবের দর চড়া’’।

আলামিন নামে এক ব্যক্তি এসেছেন ডাব কিনতে। দুই দিন আগে তার স্ত্রী পূর্ণিমাকে ভর্তি করিয়েছেন মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে। তিনি বলেন, “স্ত্রী’র শরীর দুর্বল হওয়ায় ডাক্তার স্যালাইন দিছে আর পানি খেতে বলেছে। কিন্তু সবসময় তো আর পানি খেতে ভালো লাগে না। তাই তার (স্ত্রী) জন্য ডাব কিনতে এসে দেখি দাম অনেক বেশি। দুইদিন হলো হাসপাতালে ভর্তি করাইছি। এর আগে তো খরচ হইছেই। তার ওপর যদি বেশি দাম দিয়ে ডাব কিনতে হয়। তাহলে তো শেষ!”

ডাব কিনতে আসা আশরাফ হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু রোগীরা খেতে না পারলে বমি করে, এটাই স্বাভাবিক। আর বমি করলে শরীর দুর্বল হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্যালাইনের সঙ্গে ডাব খাওয়ানো ভালো। কিন্তু ডাবের অনেক দাম। দোকানদারকে প্রশ্ন করলে বলে, বাজারে নাকি ডাব পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি চিন্তা করেন একটা ছোট ডাবের দাম ১০০ টাকার ওপরে। আগে এই ডাব ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। রোগীর ওষুধ খরচ, তার ওপর আবার ডাবের বাড়তি দাম। কোনদিকে যাবো আমরা?”

আওলাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, “মা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডাবের জল মায়ের ভালো লাগতেছে শুনে ডাব কিনতে আসছি। ডাক্তারও ডাব খাওয়াতে বলেছেন। কিন্তু ১৫০ টাকা একটা ডাবের দাম। ছোট একটা ডাবের দাম এতো টাকা। এটা তো অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে আমার।”

কুদ্দুস নামের এক ডাব বিক্রেতা বলেন, “ডেঙ্গু রোগী বেশি হওয়ার ফলে ডাবের চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশি। আগে সারাদিনে ৭০ থেকে ৮০টা ডাব বিক্রি হলেও, এখন ১২০টা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এখন চাহিদা বেশি হওয়ায় মোকামে (আড়ৎ) সরবরাহ কম আর দামটাও বেশি। একটা বড় মাপের ডাব মোকামে কিনতে হয় ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। তারপর পরিবহন খরচ আছে। সবমিলিয়ে একটা ডাব বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।”

রুবেল নামে এক ডাব বিক্রেতা বলেন, “ডাবের চাহিদা বাড়ছে বলে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ডাব কিনতে আসে, তারা অনেকেই ডেঙ্গু রোগীর পরিবারের লোকজন। ডেঙ্গুর কারণে ডাবের দামও এখন বেশি। আগে যেই ডাব কিনে আনতাম ছয় হাজার টাকা দিয়ে। এখন কিনতে হয় আট হাজার টাকা দিয়ে। আর বিক্রির কথা যদি বলি, আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৭০ টা ডাব বিক্রি করতে কষ্ট হইতো। আর এখন বিকাল হতে হতেই ১শ’র ওপরে ডাব বিক্রি হয়।”

ডেঙ্গু রোগীর ডাবের প্রয়োজনীতা নিয়ে কথা হয় মুগদা মেডিকেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পানি শূণ্যতায় ভোগেন। এই শূণ্যতার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর শরীরে লবণ শূণ্যতা দেখা যায়। যার অভাব পূরণে প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে ডাব অন্যতম। তাছাড়া রোগীকে আমরা পানি খাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকি। কিন্তু রোগী আর কত পানি খাবেন। এজন্য আমরা ডাব খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই”।

Link copied!