• ঢাকা
  • সোমবার, ২০ মে, ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

আ.লীগের তৃণমূলে দলীয় কোন্দল বাড়ছেই


সফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৩, ০৯:০১ পিএম
আ.লীগের তৃণমূলে দলীয় কোন্দল বাড়ছেই

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে নেতাকর্মীদের কোন্দল কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কুপিয়ে জখম থেকে শুরু করে ঘটছে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও।

এর জন্য অন্তর্কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের চেয়ে অনুপ্রবেশকারীরাই বেশি দায়ী বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, দলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া দলীয় সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের আলোচিত ডাবল মার্ডার, ঝিনাইদহে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, রংপুরে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যা উল্লেখযোগ্য।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানসহ দুইজনকে গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নোমানের মৃত্যু হয়। অপরজন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।

নিহত যুবলীগ নেতা নোমানের বড় ভাই বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান এ ঘটনার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম জেহাদী ও তার বাহিনীকে দায়ী করেছেন।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, “আওয়ামী লীগের ভেতর এমন কোনো কোন্দল নেই, যে নিজ দলের দুজনকে গুলি করে হত্যা করতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতের জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

হরিণাকুন্ডুতে কুপিয়ে হত্যা

গত ২৪ এপ্রিল দুপুরে সামাজিক বিরোধের জের ধরে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর মান্দারতলা গ্রামে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিনের সমর্থক লুৎফর রহমান (৪০) নামের এক কর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১ এপ্রিল সাইফুলের সমর্থক রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে খবিরের সমর্থকরা। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ২৪ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে খবিরের সমর্থক মান্দারতলা গ্রামের লুৎফর রহমান হরিনাকুন্ডুতে যাচ্ছিলেন। পথে মান্দারতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন বলেন, “লুৎফর রহমান ঢাকাতে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন। কয়েকদিন আগে সে বাড়িতে আসছে। অন্যায় ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।”

স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যা

রংপুরের কাউনিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে  সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হারাগাছ খানসামা ইমামগঞ্জ স্কুলের সামনে সোনা মিয়া (৫৫) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোনা মিয়া হারাগাছ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা জানান, সোমবার বিকেলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপজেলার ইমামগঞ্জ স্কুল মাঠে আসেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সেখানে সোনা মিয়া ও তার ভাই মুকুল মিয়া বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু করলে আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাকের লোকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। কারণ মুকুল ও সোনা মিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নাম নিয়ে স্লোগানে দেননি। এ নিয়ে সেখানে হট্টগোলের চেষ্টা করে দুই পক্ষের লোকজন। পরে রাতে সোনা মিয়াকে বাজারে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে।

ঝালকাঠিতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

ঝালকাঠির নলছিটিতে ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে শহরের হাইস্কুল রোডে তরিকুল ইসলাম সুমন ওরফে কানপচা সুমন (৩৫) নামের যুবলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তরিকুল ইসলাম যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

শুধু এ হত্যাকাণ্ড নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, নগর-মহানগরে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে নানা ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। দলের কমিটিতে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে আত্মীয়, বিভিন্ন মামলার আসামি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত, অযোগ্য এবং বিএনপি থেকে আগত হাইব্রিডদের পদায়ন করার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের। পূর্বে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই, তবু পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ, অনেকে আশানুরূপ মূল্যায়ন না হওয়ায় দলে এ ধরণের বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন। তবে এসব ঘটনা নিরসনে দ্রুত মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, “দলের সব জায়গায় এ ধরণের আদর্শবিরোধী লোক যারা ঢুকে পড়েছে, যারা দলে ঢুকে হানাহানি করছে, তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। আমরা সে পথেই হাঁটছি।”

একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান। তিনি বলেছেন, “খুব শিগগিরই জেলাভিত্তিক বর্ধিত সভা ডেকে এই কোন্দল বন্ধ করার আহ্বান জানাব। যদি এ কোন্দল তারপরও অব্যাহত থাকে, তাহলে যারা দোষী হবে তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হবে, যাতে তারা আর কখনোই এ দলে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে এবং দলের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।”

Link copied!