• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৮ শা’বান ১৪৪৫
বেসামাল পরিস্থিতি

ডেঙ্গুতে এক হাসপাতালেই ২৫৩ দিনে ৭৬ মৃত্যু


জাহিদ রাকিব
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৩, ০৮:৩৫ পিএম
ডেঙ্গুতে এক হাসপাতালেই ২৫৩ দিনে ৭৬ মৃত্যু
রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা

সব হিসাব পাল্টে দিচ্ছে ডেঙ্গু। ধারণার বাইরে চলে গেছে সংক্রমণের ভয়াবহতা। শনিবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, “সারা দেশে দশগুণ বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী। প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে দেখা দিয়েছে স্যালাইন সংকট।” হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার-নার্সরা। এ মাসের প্রথম ১৩ দিনে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালেই মারা গেছেন ২৩ জন। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ৩৬। আর গত ৮ মাস ১৩ দিনে এই হাসপাতালেই মৃতের সংখ্যা ৭৬। রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতাল ও সারা দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ৩৯৮।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণে এমন মৃত্যু সংখ্যা ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও। ইতোমধ্যে সংস্থাটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, মুগদা হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের অসহনীয় চিত্র। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর অস্বাভাবিক ভিড়, শয্যা ছাড়িয়ে চিকিৎসা চলছে বারান্দা ও মেঝেতে। রোববার পর্যন্ত ৩১ হাজার ৫৫১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এই হাসপাতালে। সেবা দিতে খোলা হয়েছে বিশেষ ইউনিট। রোগীর চাপে কর্তৃপক্ষের যেন নাজেহাল অবস্থা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে ২৩ জন মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজন, ১২ আগস্ট দুইজন, ১১ আগস্ট দুইজন ও ১০ আগস্ট একজন। জুলাই মাসে ৩৬ জন ও জুন মাসে ১৬ জন। গত ৯ মাসে এ হাসপাতালেই মারা গেছে ৭৬ জন।

আবার রোগীর ভর্তির দিকে থেকেও অন্য হাসপাতালের চেয়ে এগিয়ে মুগদা হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী ভর্তি হয় এখানে। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে চার হাজার ৯৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জুলাই মাসে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৩৬৮ জন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৩১ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “বুধবার (৯ আগস্ট) ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পরই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শুরুর দিনে পেট ফুলে যাওয়া, বমি, খাবার খেতে না পারা ও জ্বর ছিল। প্লাটিলেট ২০ হাজারে নেমেছিল। এখন ভালো, ৫০ হাজারের ওপরে। ডাক্তার বলছে ৪ ব্যাগ রক্ত দিতে। এখন পর্যন্ত দুই ব্যাগ দিয়েছি।”

মুগদা হাসপাতালের ৮ তলার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মাহফুজা (১৯)। তিনি সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “আজই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বলা হয়েছে কোনো শয্যা খালি নেই। মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হবে। শয্যা না পাওয়া নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগও নেই। চিকিৎসা পেলেই হলো।”

ভোলা থেকে এনে সাত দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছোট ভাইকে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন মিজান হোসেন। তিনি সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “মুগদায় আমার এক আত্মীয়ের বাসা হওয়ায় এখানে ভাইকে ভর্তি করেছিলাম। সাত দিন আগে তার পেট ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি, খাবারে রুচি ছিল না। খাবার খেলে বমি করত, সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর ছিল। তার প্লাটিলেট ১৫ হাজারে নেমেছিল। আজ ছাড়পত্র দিতে পারে। দূর থেকে এসেছি, সেবাও পেয়েছি। ভাই অনেকটা সুস্থ।”

মুগদা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নিয়াতুজ্জামান সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ৮ শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী আসছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের কোনো শয্যা খালি নেই। ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি আছে এখানে। তারপরও আমরা ভর্তি নিচ্ছি। কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।”

মুগদা হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, “রোগীর চাপ বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা। আমাদের অনেকে এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তবুও চিকিৎসক ও নার্সদের মনোবল ভাঙেনি। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সবাইকে সেবা দিতে পারছি।”

Link copied!