ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না আদরের শিশুরাও। পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে প্রতিদিন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। প্রতি দুই ঘণ্টায় ঢাকার শিশু হাসপাতালে ১ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।
গত ২৪ঘণ্টায় ১২ শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভর্তি হয়েছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনিস্টিটিউটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। যাদের অনেকেই আসছেন ঢাকার বাইরে থেকে। জ্বর ও বমি নিয়ে পরীক্ষা শেষে জানতে পারছেন তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে জ্বর, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা, বমিসহ নানা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ডেঙ্গু ধরা পড়ছে বেশি।
শিশু হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে ভর্তি আফরিনা আক্তার (৫)। তার মা নাজমা আক্তার সংবাদ প্রকাশকে বলেন, আমি চাঁদপুর থেকে এসেছি। আজ ১৩ দিন ধরে মেয়ের জ্বর কমছেই না। এখানে গত রোববার ভর্তি হয়েছি। আমি আর আমার ছেলে এখানে এসেছি। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখে আমিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এখনও চিকিৎসা চলছে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ নম্বর বেডে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছে আট বছরের আলিফা। হাতে ক্যানোলা পরানো শিশুটি কোনোভাবেই হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছিল না। তার মা সাথী সুলতানা সংবাদ প্রকাশকে বলেন, মোহাম্মাদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় তারা বসবাস করেন। ছয় দিন আগে হঠাৎ মেয়ের জ্বর আসে। তিন দিন বাসায় প্যারাসিটামল খেয়েও শারীরিক উন্নতি হচ্ছিল না। গত বৃহস্পতিবার এখানে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তির পর ডাক্তার ডেঙ্গু ছাড়াও রক্তের একাধিক পরীক্ষা দেয়। রিপোর্ট দেখে তারা জানান, রক্তের প্লাটিলেট ৩ লাখের ওপরে থাকার নিয়ম থাকলেও এক লাখে নেমে এসেছে আলিফার। দুই দিনে টানা সাত ব্যাগ স্যালাইন দিতে হয়েছে তাকে।
রায়ের বাজারের আকলীমা আক্তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি সংবাদ প্রকাশকে বলেন, গত সপ্তাহের শনিবার থেকে মেয়ের জ্বর শুরু হয়। এরপর জ্বর একটু কমে। একদিন পর মেয়ের খিচুনি ওঠে। এরপর তাকে নিয়ে গতকাল শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে এসে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডা. নাজিফা রেজা সংবাদ প্রকাশকে বলেন, এই ওয়ার্ডে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীদের অবস্থা খারাপ হলেই হাসপাতালে আসে। পেট ব্যথা, বমি বেশি হয়। তখন হাত-পায়ে পানি চলে আসে। তখন চিকিৎসার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। এখানে গতকাল ১৪ জন শিশুরোগী এসেছে, তাদের মধ্যে দুই জনেরই ফুসফুসে পানি চলে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ২ হাজার ৫০২ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ১ হাজার ৭৭৩ জন, আর বাকি ৭২৯ জন ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মারা গেছেন এখন পর্যন্ত ৬৫ জন।




































