ডা. জাহেদ উর রহমান

পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়

সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা একথা জানান। 

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে...আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ফলো করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি এভাবে মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা টেনশন তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচিত হয়ে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছি, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। দুই দেশই চায় সেটা। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাইমারিলি দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’ 


‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এ রকম আমি মনে করি না।’

হামের শিশু মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো কমিটি বা কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, 'ইনফ্যাক্ট এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজে কথা বলেছি। আমি মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় আপনাদের যেটা জানিয়েছেন আমি আসলে সেটুকু কনভে করতে পারি এখন আপাতত। কারণ মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ড সেটা। উনার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) ওই বক্তব্যটা আমি দেখেছি যখন এই তদন্ত কমিটির কথা এসেছে। তিনি জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এই অসুস্থতাটা নিয়ে তারা চেষ্টা করছেন, এটাকে কত সফলভাবে ভালোভাবে ম্যানেজ করা যায়। সেটা মোটামুটি ম্যানেজড হলেই তারা তদন্ত কমিটি করবেন। সো মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানটাই আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবেও এই খবরটা আবার নেব। তদন্ত কমিটি হয়নি, হলে নিশ্চয়ই আপনারা জানতেন। সরকার কিন্তু এটা বলেনি যে তদন্ত কমিটি করছে না। 

বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর আক্রমণ করেছে। কোথাও মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, 'ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হতো বা সরকার যদি অ্যালার্ট না হতো তাহলে এই প্রবণতা কিন্তু আরও বেশি হতো। আমরা একটা কথা বারবার বলছি, একটা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আইন ভঙ্গের প্রবণতা থাকে। এটা সব দেশে আর আমাদের মতো দেশে তো আরও বেশি থাকে। এটা হলো এক নম্বর। দুই নম্বর হচ্ছে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যারা নিষিদ্ধ আছে, আপনারা খেয়াল করবেন যে সরকারের এই বদনামও আওয়ামী গোষ্ঠী রূপান্তর করেছে যে ২০০৯ সালের যে সন্ত্রাস দমন আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফর দ্য টাইম বিয়িং, সেটার যে অধ্যাদেশ ছিল সেটাকে এই সরকার আইনে পরিণত করেছে। তার মানে সরকার চাইছে তার কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকুক।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, 'এটার (অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা) সমালোচনাও অনেকে করছেন। তার মানে সরকারের ইনটেনশনটা আমি জানিয়ে দিলাম যে, সরকার চাইছে এটা থাকুক। সেটার বিরুদ্ধে কখনো কখনো কোনো কোনো ঘটনা ঘটছে, সেটা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই সিরিয়াস থাকবে এবং একটা যেটা বললেন যে খুব বড় স্কেলে করার চেষ্টা হয়েছে মাইকে কথা বা ঘোষণা দিয়ে, এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য কাজ করবে এই সরকার।’

Link copied!