• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৯ মুহররম ১৪৪৫

১৫ দফা দাবিতে উবার চালকদের কর্মবিরতি


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২, ০৪:০১ পিএম
১৫ দফা দাবিতে উবার চালকদের কর্মবিরতি

সর্বনিম্ন ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারণসহ ১৫ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছেন উবার চালকরা।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সংগঠনের সভাপতি রাজেশ খান বলেন, “যাত্রীদের অভিযোগ আমরা বেশি ভাড়া নেই। কিন্তু যানজট ও অন্যান্য কারণে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় তা পায় অ্যাপস কোম্পানি।”

রাজেশ খান আরও বলেন, “উবার কোম্পানি আমাদের নতুন চুক্তিনামার জন্য ম্যাসেজ দিয়ে আসছে। যা সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায় হওয়ায় অনেকেই  না বুঝে সম্মতি দেন। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ এর অনুচ্ছেদ ‘চ’ এর ৭ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ রাইড শেয়ারিং সম্পর্কিত অ্যাপগুলোর ওয়েবসাইট এবং মোবাইল উভয় জায়গায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ২০২১ সালে উবার ভোক্তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। কিন্তু রাইড-শেয়ারিং মালিকরা চালক ও যাত্রীদের প্রাপ্য সেবা দিচ্ছে না। উবার ও অন্যান্য সব রাইড-শেয়ারিং কোম্পানি সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ অনেক ক্ষেত্রেই অমান্য করে আসছে।”

অ্যাপ বেইজড ড্রাইভারস ফেডারেশন অব বাংলাদেশের দাবিগুলো হলো

১. মোটরযানের মালিক ও চালকদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিপত্রে সব পক্ষের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয় লিখিত উল্লেখ করতে হবে।

২. উবারসহ সব রাইড-শেয়ারকারী কোম্পানিগুলোকে ড্রাইভারদের শ্রমিক হিসেবে মর্যাদা ও অধিকার দিতে হবে।

৩. রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের ওয়েব ও মোবাইলের সব চুক্তিপত্রে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪. প্রতিষ্ঠান ও চালকদের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

৫. আইডি বন্ধের ১ মাস আগে চালক বা গাড়ির মালিককে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে। অভিযোগের প্রমাণ ছাড়া কোনো আইডি বন্ধ করা যাবে না। এর আগে বন্ধ করা সব আইডি খুলে দিতে হবে।

৬. রাইড-শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকর্তৃক চালক ও যাত্রী উভয়ের ঝুঁকি বিমা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রাইড-শেয়ারিং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা ড্রাইভার সাপোর্ট নম্বর খোলা রাখতে হবে। যাত্রী ও ড্রাইভারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে সমঝোতার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. মিনিট, কিলোমিটার বেইজ হিসেব করে পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। বাইকের ক্ষেত্রে প্রতি ট্রিপে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ১৫০ টাকা, কারের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ১০ শতাংশের বেশি কমিশন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

১০. রাইড-শেয়ারিংয়ে থাকাকালীন যদি কোনো চালক ক্ষতিগ্রস্ত হন, তার দায়ভার অবশ্যই কোম্পানিকে নিতে হবে। পূর্বে রাইডে থাকাকালীন খুন হওয়া ব্যক্তি ও ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটলে তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

১১. সালিসি আইন বাদ দিয়ে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় আইন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আইন শ্রমিক মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিএর আইন কার্যকর করতে হবে।

১২. যাত্রীদের কাছ থেকে বুকিংয়ের নামে ১০ টাকা বুকিং ফি নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

১৩. নতুন নিয়ম চালু করে চালকদের কাছ থেকে ট্যাক্স নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

১৪. রাইড নেওয়া অবস্থায় যাত্রী কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে চালকরা দায়ী থাকবে না।

১৫. ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সব বিভাগীয় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ও বে-আইনি ভাবে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

Link copied!