• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
ডিআইজি পার্থ গোপালকে জামিন

হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন বিচারক


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১, ০১:০৪ পিএম
হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন বিচারক

দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিক পন্থায় জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন।

রোববার (২২ আগস্ট) হাইকোর্টের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে এক লিখিত ব্যাখ্যায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। লিখিত ব্যাখ্যাটি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে।

লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি আপিল নং (১০৫৩৪/১৯) মামলায় গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পার্থ গোপাল বণিকের মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্নের জন্য জজ ইকবাল হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ যথাসময়ে না পৌঁছানোয় ছয় মাসের সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে বলে আসামির আইনজীবী বিশেষ আদালতকে জানায়। এছাড়া ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং (১৪৫/২১) মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট অপর এক আদেশে মামলাটির বিচার এক বছরের  মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ১০ মার্চ এই আদেশের অনুলিপি পান। এই আদেশে উল্লিখিত সময়সীমার মেয়াদ এখনো রয়েছে। তাই লিখিত ব্যাখ্যায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না করে বরখাস্তকৃত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে ‌‌জামিন দেওয়ার ভুলের জন্য হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বিচারক ইকবাল হোসেন।

এর আগে গত ১৭ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চুয়াল আদালত পার্থ গোপাল বণিককে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি কারামুক্ত হন। পরে পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেওয়ার বিষয়ে বিচারিক আদালতের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেনকে ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৮ জুন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়। পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেপ্তারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

Link copied!