ছোটবেলা থেকেই শিশুর শিক্ষার শুরু হয় পরিবারে। বাবা-মা ও কাছের মানুষ শিশুকে শেখায়, সঙ্গ দেয়। তাই কাছের মানুষকেই শিশুরা ভালোভাবে চেনে। তাদের সঙ্গই পছন্দ করে। নতুন কারো সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারে না। পারলেও বেশ খানিকটা সময়ই লেগে যায়।
ছোট থেকে শিশুরা বড় হয়ে স্কুলে যায়। তখনও সেই অভ্যাসই রয়ে যায়। শিশুরা সহজেই সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতে পারে না। একসঙ্গে খেলতে চায় না। কোলাহল অপছন্দ করে। নিজের মধ্যে থাকে। নিজের ঘরে খেলনা অথবা রং পেন্সিল নিয়ে খেলতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য থাকে তারা।
শিশুর এমন সমস্যায় বাবা মায়েরাও দুশ্চিন্তায় থাকে। কারণ বন্ধু কম হওয়ায়, নিজেকে প্রকাশ করতে না পারায়, লোকচক্ষুর অগোচড়ে থাকায় এমন শিশুরা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে থাকে্। সাধারণত শিশুরা লাজুক হলে এমনটা হতে পারে। আবার একাকিত্ব পরিবেশে বড় হওয়া থেকেও এমনটা হতে পারে। যত বড় হতে থাকবে ততটাই বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।
শিশুর এই জড়তা কাটিয়ে কীভাবে অন্যদের সঙ্গে সাবলীল করতে মা-বাবা কিংবা পরিবারের অন্যরা কী করবে তা জানাব এই আয়োজনে_
- ‘আমার সন্তান লাজুক’এই কথাটা অন্যদের বলবেন না। সন্তানের সামনেও এই কথা বলা যাবে না। আপনি শিশুকে যেভাবে উপস্থাপন করবেন তারাও সেটি মনে বসিয়ে নেয়। শিশুরা এটাই বিশ্বাস করে এবং হীনমন্যতায় ভোগে। অন্যরা এমন কথা বললেও বাধা দিন। সন্তানকে অন্যের সামনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করানোর চেষ্টা করুন। বলুন- ‘আমার সন্তান লাজুক নয়, আজ একটু কম কথা বলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার সঙ্গে মিশে যাবে।‘ দেখবেন সন্তানও নিজেকে ওই পরিবেশে মিশিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
- সবকিছুতেই সন্তানকে রক্ষা করতে যাবেন না। আপনার সন্তানকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তাকেই উত্তর দেওয়ার সময় দিন। আপনি উত্তর দিবেন না। অপেক্ষা করুন, এরপর তাকে বলার জন্য় উত্সাহী করুন। এরপরও না হলে বাড়িতে অবসর সময়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন, নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচয় হলে কথা বলতে হয়। সন্তানের সঙ্গে খেলার মাঝেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্র্যাকটিস করাবেন।
- সব বাচ্চারা একইভাবে বেড়ে ওঠে না। পরিবেশের কারণেও তারা সংযত হয়ে থাকতে পারে। তবে কেউ লাজুক মানেই জীবনের সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে এমনটা কিন্তু নয়। তাই তার উপর চাপিয়ে দিবেন না। যা আপনার সন্তান করতে ভালবাসে সেদিকে নজর দিন। ওকে উৎসাহ দিন। নিজের জগতে থাকতে দিলেও কল্পনাশক্তি বেড়ে উঠবে।
- কোথাও যাওয়ার আগে সেই স্থান ও মানুষদের সম্পর্কে আপনার সন্তানকে জানাবেন। গল্প করুন। কোথায়, কাদের বাড়ি যাচ্ছেন, কী হবে, কখন ফিরবেন সব কথাই বলুন। এতে সন্তানের কাছে সব পরিচিত মনে হবে এবং ওই পরিবেশে গেলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।
- প্রয়োজনে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পৌছে যান সন্তানকে নিয়ে। প্রত্যেকটি জায়গা ঘুরে দেখান। অপরিচিত মনে হবে না এবং কান্নাকাটিও করবে না।








































