কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর হতে পারে: ডব্লিউএইচও


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর হতে পারে: ডব্লিউএইচও

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, এবারের পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও উদ্বেগজনক।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিআরসির পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারান ২ হাজার ২৮৭ জন।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত ডিআরসিতে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানুষের। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ২০ জন আক্রান্ত এবং দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ শনাক্ত রোগীও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। 

প্রথমত, এটি বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। দ্বিতীয়ত, রোগটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার পর ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। গত এক বছরে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় রোগ নজরদারি ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ, যা উগান্ডা সীমান্তের কাছাকাছি। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত এবং সরকারি সংস্থার প্রতি স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাসের কারণে আক্রান্তদের শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সংকটের মুখে রয়েছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ঘাটতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, বেতন না পাওয়া এবং স্থানীয় কিছু মানুষের হামলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। ভাইরাসের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করায় অনেক বাসিন্দা চিকিৎসা নিতেও অনীহা দেখাচ্ছেন।

গত সপ্তাহে ইতুরির বুনিয়া শহরের কাছে অবস্থিত রুয়ামপারা জেনারেল হাসপাতালের কয়েক ডজন স্বাস্থ্যকর্মী বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। হাসপাতালটিতে একটি বড় ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। মে মাসে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পালিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও হামলার চেষ্টা করেন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন মারা গেছেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!