• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে ক্ষুব্ধ মমতা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে ক্ষুব্ধ মমতা
ফারাক্কা বাঁধ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকালে শনিবার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আশ্বাস দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নিয়ে আপত্তি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে এ চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নবায়নকে রাজ্য ‘বিক্রি করার পরিকল্পনা’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। 

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূল বলছে, ফরাক্কা-গঙ্গা চুক্তিতে রাজ্য সরকারও পক্ষ। কিন্তু নবায়নের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি। যা অত্যন্ত খারাপ। এই চুক্তি বাবদ রাজ্য সরকারের যে পাওনা টাকা, তা-ও বকেয়া রয়েছে। গঙ্গার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। যা বাংলায় বন্যা এবং ভাঙনের প্রাথমিক কারণ হয়ে উঠেছে।

১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়েছিল। তাতে একাধিক রাজ্য সরকারও শরিক। যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূল বলছে, ২০১৭ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ফরাক্কার বাঁধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বেড়িবাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

২০০২ সালে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার একাংশে গঙ্গাভাঙন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল বলেছে, দুবছর আগে মমতাও বলেছিলেন, ফরাক্কা ব্যারেজের জন্যই বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকাকে ভাঙনের মুখে পড়তে হচ্ছে। যার ফলে মানুষের ভিটেমাটি যেমন যাচ্ছে, তেমনই ক্ষতি হচ্ছে চাষেরও।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে খানিকটা হুঁশিয়ারির সুরেই তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্য দেশের সঙ্গে কোনো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত করার অধিকার কেন্দ্রের রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রকে এটাও বুঝতে হবে, রাজ্য সরকার সহযোগিতা না করলে তিস্তার পানি বণ্টনের মতো চুক্তি থমকে থাকে। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানের পর কেন্দ্রও সম্মত হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে এড়িয়ে তারা (কেন্দ্র) কিছু করবে না। অনেকের মতে, রাজ্যকে এড়িয়ে ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন হওয়ায় তিস্তা চুক্তি আরও ঝুলে গেল।

Link copied!