ভারতের মুম্বাইয়ের নালাসোপারার ‘সাই সন্তোষী’ বিল্ডিংয়ের ফ্ল্যাটে গত রবিবার যখন ২২ বছরের সঞ্চিতা উগালের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়, তখন সবাই ভেবেছিল এটি গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের আরেকটি অবসাদের গল্প। কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টায় এই মামলা এমন কিছু মোড় নিয়েছে, যা মুম্বাই পুলিশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে অল ইন্ডিয়া সিনেমা ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে এই মৃত্যুর উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের আর্জি জানিয়েছে।
সঞ্চিতার মৃত্যুর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর জি নিউজের একটি রিপোর্টে তার ব্যক্তিগত সাইকোলজিস্টের সাথে করা শেষ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপের সেই আলাপচারিতা শিউরে ওঠার মতো। সঞ্চিতা তার ডাক্তারকে লিখেছিলেন, ‘আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব ভয় পাচ্ছি। ইদানীং খুব অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর সব স্বপ্ন দেখছি। আমার মনে হচ্ছে আমার মাথায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমি জানি না আমি আর কখনো শুটিং করতে পারব কি না। আমি সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছি...।’ এই চ্যাট প্রমাণ করে যে অভিনেত্রী ভেতর থেকে কতটা একা এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
প্রয়াত অভিনেত্রীর ভাই আকাশ উগালে পুলিশের কাছে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকেই ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ চক্র সঞ্চিতাকে টার্গেট করছিল। একটি ভাইরাল রীলে সঞ্চিতার প্রোফাইল পিকচার ব্যবহার করে ক্যাপশনে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ টেনে এনে পরোক্ষভাবে তাকে ট্রোল ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। কাস্টিং সার্কিটের কোনো চক্র এর পেছনে জড়িয়ে আছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
সঞ্চিতার সহ-অভিনেতা উজ্জ্বল শর্মার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগটি এখন পুলিশের প্রধান নজরে। সঞ্চিতার বন্ধু ইন্দ্রাক্ষী কাঞ্জিলাল দাবি করেছেন যে, ‘সাজন ঘর’ ধারাবাহিকের সেটে উজ্জ্বল টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে সঞ্চিতাকে চড় মারার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই উজ্জ্বলের ফোন রেকর্ড এবং চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখার জন্য সমন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও সঞ্চিতা তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত আনন্দময় রীল পোস্ট করেছিলেন। যেখানে একটি পিচ-পিঙ্ক রঙের ট্র্যাডিশনাল পোশাকে ‘ডাফলি ওয়ালে ডাফলি বাজা’ গানে তাকে হাসিমুখে নাচতে দেখা যায়। এই হাসিমুখের আড়ালে যে এতটা অন্ধকার লুকিয়ে ছিল, তা ভাবতেও শিউরে উঠছেন তার সহ-অভিনেতা সরব বেদী ও সিমরান বুধারুপ।


































