রাবির ক্যাম্পাসে খাবারের দাম বাইরের থেকেও বেশি


রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২২, ০৩:৫৫ পিএম
রাবির ক্যাম্পাসে খাবারের দাম বাইরের থেকেও বেশি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে খাবারের দাম, বাইরের হোটেল থেকেও বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে খাবারের যে দাম, ক্যাম্পাসের ভেতরে তার থেকেও বেশি রাখছেন দোকানিরা। রাবি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে টুকিটাকি চত্বরেই সবচেয়ে বেশি খাবারের দোকান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখানে খাবারের মানের দিকে দোকানিদের কোনো নজর নেই; তারা যেভাবে পারছেন দাম বাড়াচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে খাবারের দাম প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সংবাদ প্রকাশকে জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরে খাবারের দাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের হোটল-রেস্টুরেন্ট থেকে কিছুটা কম থাকে। কিন্তু রাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবারের দাম আশপাশের খাবারের দোকানগুলো থেকে বেশি রাখা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলসিলা রেস্তোরাঁয় দেড় প্লেট ভাতের দাম রাখা হচ্ছে ২৫ টাকা; অন্যদিকে স্টেশন বাজার এলাকায় দেড় প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকা। শুধু সিলসিলা নয়, টুকিটাকি চত্বরেও খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। সিঙ্গারা, পুরি, চপ ইত্যাদির দাম টুকিটাকিতে ৭-৮ টাকা রাখা হলেও, ক্যাম্পাসের বাইরে ৫ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে এসব আইটেম। 

এছাড়া কনডেন্সড মিল্কের এক কাপ চা-এর দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা হারে। তাছাড়া, সকালের নাস্তার জন্য পরোটার সাইজ ছোট হলেও দাম ঠিকই বাড়িয়েছেন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের দোকানিরা।

দোকানিরা বলছেন, জিনিসপত্রের যা দাম, সেই হিসেবে আমাদের পক্ষে এর চেয়ে কম দাম রাখা সম্ভব নয়। বাজার করার সময় আমাদেরও হিমশিম খেতে হয়। জিনিসপত্রের দাম কমে গেলে, আমরাও খাবারের দাম কমিয়ে দেবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে দোকানের ভাড়া অনেক কম। সেই হিসেবে দোকানিদের উচিৎ খাবারের দাম নির্ধারণে সমন্বয় করা; কিন্তু তারা তা করছে না বাড়তি মুনাফা লাভের আশায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল মাহমুদ বলেন, “কনডেন্সড মিল্কের এক কাপ চা কীভাবে ১০ টাকা হয়? স্টেশন বাজারে যেখানে ১৫ টাকায় আমরা দেড় প্লেট ভাত খেতে পারছি, ক্যাম্পাসে এসে আমাদের আরও বেশি দিতে হচ্ছে। প্রশাসনের এই বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম সাদিয়া বলেন, “সকাল থেকেই ক্লাস থাকায় ক্যাম্পাসেই নাস্তা করি। এখানে রুটির যা সাইজ তা এই দামের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। অন্যদিকে সিঙ্গারা, পুরি সবকিছুই দাম বিবেচনায় মানানসই নয়। ক্যাম্পাসের বাইরেও এই দামে ভালো খাবার পাওয়া যায়।“

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, “খাবারের দামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করব। ক্যাম্পাসের বাইরের হোটেলগুলোর খাবারের দামের সঙ্গে অভ্যন্তরের খাবারের মূল্য সমন্বয় করেই দোকানিদের খাবারের দাম নির্ধারণ করতে হবে।”

Link copied!