• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা জেলহাজতে


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৩, ০২:০০ পিএম
ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা জেলহাজতে

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৫ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মহসীন জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড়মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু ৩০ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে বড় মনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় অর্ধশতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি।

ওই কিশোরী ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয়র জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদেকুর রহমান। 

Link copied!