একাত্তরের এই দিন (৭ ডিসেম্বর) মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদারদের দখল থেকে মুক্ত হয় শেরপুর। এইদিন মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা জেলা শহরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে সংবর্ধনা সভায় শেরপুরকে মুক্ত ঘোষণা করেন। এ সময় শেরপুরে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই সঙ্গে নালিতাবাড়ী উপজেলাও শত্রুমুক্ত হয়। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নালিতাবাড়ীর ১৮৭ জন, ঝিনাইগাতীর জগৎপুরে ৬১ জন ও শ্রীবরদীতে ২৫ জন শহীদ হন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আকতারুজ্জামান জানান, ১১ নম্বর সেক্টরের আওতায় কামালপুর মুক্ত হলে পাকিস্তানি হানাদারদের মনোবল ভেঙে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় শেরপুরে পাকিস্তানি বাহিনী, আলবদর ও রাজাকারদের বিভিন্ন ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। কামালপুর দুর্গ দখলে নেওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর সব ক্যাম্প ধ্বংস করা হয়।
ফকির আকতারুজ্জামান আরও বলেন, ৪ ডিসেম্বর কামালপুরের ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের মুহুর্মুহু আক্রমণ ও গুলি বর্ষণে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটেন। ৫ ডিসেম্বর তারা কামালপুর-বক্সিগঞ্জ থেকে শেরপুর শহর হয়ে জামালপুর অভিমুখে চলে যান। ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয় শ্রীবরদী।
এদিকে ঝিনাইগাতীতে আহম্মদনগর সেক্টর ক্যাম্প থেকেও পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটেন। তারা ৬ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে শহর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জামালপুর পিটিআই ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় শেরপুর। স্বাধীনতার পতাকা উড়ে জেলায়।


























