• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১০ মুহররম ১৪৪৫

সেই শিক্ষিকার সঙ্গে কলহ ছিল মামুনের: পুলিশ সুপার


নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২২, ০৯:৪৩ পিএম
সেই শিক্ষিকার সঙ্গে কলহ ছিল মামুনের: পুলিশ সুপার

নাটোরে বহুল আলোচিত কলেজ শিক্ষক খাইরুন নাহারের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীনের আদালতে তোলা হলে তিনি তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় মামুনের জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন।

কোর্ট ইনস্পেক্টর নজমুল হক জানান, আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন

কোর্ট জিআরও খাদেমুল ইসলাম একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ দুপুর ১টার দিকে তাকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জানান, রোববার রাতে কলেজ শিক্ষিকার চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। মামলায় কাউকে অভিযুক্ত না করায় আটক মামুনকে ৫৪ ধারায় আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নাটোর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ রায় জানান, ময়নাতদন্তে কলেজশিক্ষিকার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশের সুরতহাল ও মেডিকেল টিমের রিপোর্টে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। মামুন জানান, শনিবার রাত স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া হলে তিনি খাইরুনকে লাথি মেরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাইরে চলে যান।

এরপর শিক্ষক খাইরুন নাহার বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন রিসিভ করেননি‌। সেদিন রাত ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে মামুনের চলাফেরার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এক বছর আগে ফেসবুকে নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের ছয় মাস পর তাদের সম্পর্ক জানাজানি হলে ছেলের পরিবার তা মেনে নেয়। তবে মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। এই অসম বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়।

ওই কলেজশিক্ষিকা এর আগে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক ছেলেকে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। প্রথম স্বামীর ঘরে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়।

Link copied!