• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

চাকরি বাঁচাতে ঢাকায় ছুটছে মানুষ


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
চাকরি বাঁচাতে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

দেশে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকার ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। কঠোর লকডাউনে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও মালিকদের চাপে চাকরি বাঁচাতে আবারও কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজও (শুক্রবার) মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) সরেজমিন পাটুরিয়া ফেরি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বাস সার্ভিস বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিক-আপ ভ্যান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে মানুষ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা কম। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

ফরিদপুরের আনোয়ার হোসেন। ঢাকার একটি পোশাক কারখানার সুপারভাইজার। লকডাউনের মধ্যে কেন ঢাকায় যাচ্ছেন প্রশ্ন করলে বলেন, “অফিস থেকে বলা হয়েছে ১ তারিখ থেকে অফিস না করলে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হবে। তাই চাকরি বাঁচাতেই ঢাকায় যাচ্ছেন। চাকরি চলে গেলে পরিবারের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে। এখন আমার ঢাকায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।”

সালেহা আক্তার পেশায় পোশাক শ্রমিক। তিনি বলেন, “কুষ্টিয়া থেকে ৫০০ টাকা খরচ করে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এসেছি। তারপর ঘণ্টা খানেক অপেক্ষা করে ফেরিতে করে পাটুরিয়ায় আসার পর মোটরসাইকেলে করে ২৫০ টাকা দিয়ে মানিকগঞ্জ এসেছি। এখন তো কোন কিছুই দেখছি না। তাই হাঁটা শুরু করেছি। সামনে সিএনজি, মোটরসাইকেল পেলে তাতে করে চলে যাবে।” 

বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা গরিব তাই আমাদের জীবনের কোন মূল্য নাই। সরকার বলে সব বন্ধ আর মালিকেরা বলে না আসলে চাকরি থাকবে না। যে টাকা বেতন পাই তাতে ঢাকায় যাওয়া ও আসার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। 

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, কঠোর নির্দেশনা রয়েছে ফেরিতে যাত্রী পাড় না করার। কিন্তু প্রয়োজনের সময় যখন আমাদের ফেরি ছাড়তে হয় তখন শত শত মানুষ ফেরিতে উঠে পড়ে। তখন বাধ্য হয়েই তাদের পাড় করতে হয়। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৬টি ফেরি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পার করা হচ্ছে।

এদিকে মহাসড়কে কোন গণপরিবহন না থাকায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত অটোতে চলাচল করতে হচ্ছে ঢাকামুখী মানুষের। গণপরিবহন না থাকায় ছোট ছোট গাড়ির ওপর নির্ভরশীল থাকায় এই সুযোগে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে।   

Link copied!