• ঢাকা
  • বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ বাংলাদেশে কবে-কখন আঘাত হানতে পারে


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ বাংলাদেশে কবে-কখন আঘাত হানতে পারে
ঘূর্ণিঝড়। প্রতীকী ছবি

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। দু-এক দিনের মধ্যেই তা ঘনীভূত হওয়ার কথা। যা রোববার (২৬ মে) বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাতে হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

মঙ্গলবার (২১ মে) এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, “আমার গত ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় প্রমাণ পেয়েছি, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রথমে আমেরিকার গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম বা জিএফএস নামক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল নির্দেশ করলেও ঘূর্ণিঝড়ের স্থল ভাগে আঘাতের স্থান ও সময় বিষয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্টিগ্রেটেড ফোরকাস্টিং সিস্টেম বা আইএফএস।”

মঙ্গলবারের সবশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য জানিয়ে মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ রোববার সকাল ৬টার পর থেকে রাত ১২টার মধ্যে বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে স্থল ভাগে আঘাত করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি বৃত্তের অগ্রবর্তী অংশ উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ করা শুরু করতে পারে সকাল ৬টার পর থেকে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাব্য সময় রোববার ১২টার পর থেকে বিকেল ৬টার মধ্যে। ঘূর্ণিঝড় বৃত্তের পেছন দিকের অর্ধেক অংশ পুরোপুরি স্থল ভাগে প্রবেশ করতে রাত ১২টা পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।”

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি যদি জোয়ারের সময় উপকূলে আঘাত হানা শুরু করে, তবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তবে যদি ভাটার সময় উপকূলে আঘাত হানা শুরু করে, তাহলে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৬ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে।”

মোস্তফা কামাল পলাশ আরও বলেন, “খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোর উপকূলে আঘাতের সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার; যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।”

এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম, যা পরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে। সে ঝড়ের তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। ২০২০ সালের ২০ মে দেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। বেশ বিধ্বংসী ছিল ঘূর্ণিঝড়টি। তবে সুন্দরবনের কারণে সে যাত্রায় রক্ষা পেয়েছিল দেশের উপকূল। এর আগে ২০০৯ সালে এই মে মাসের ২৫ তারিখে সুন্দরবনে আঘাত হেনেছিল প্রলয়ংকরী আইলা।

Link copied!