কৃষকের জমির সরিষা জোরপূর্বক কেটে নিলেন যুবদল নেতা


জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
কৃষকের জমির সরিষা জোরপূর্বক কেটে নিলেন যুবদল নেতা

জয়পুরহাটের কালাইয়ে এক কৃষকের জমি থেকে দলবল নিয়ে সরিষা কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়ার বিরুদ্ধে। গত শনিবার উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলাম ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জমি বিরোধের জের ধরে ঘটনা
পাঁচশিরা বাজারের বাসিন্দা মোমিন ইসলামের বাবার মৃত্যুর পর চাচাদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন মোমিনের বড় চাচা আফছার আলীর মেয়েজামাই মেহেদী মাছুম। গত শনিবার তিনি জেলা যুবদল সদস্য ফিতা মিয়াসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে মোমিনের জমিতে ঢুকে সরিষা কাটা শুরু করেন।

মোমিন বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্রে হামলার ভয় দেখানো হয়। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সরিষা কেটে সরে পড়ে। পরে পুলিশ কালাই কৃষি ব্যাংকপাড়ায় মেহেদী মাছুমের বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা সেই সরিষা উদ্ধার করে।

অভিযুক্তরা কী বলছেন
অভিযুক্ত মেহেদী মাছুম লোকজন নিয়ে সরিষা কেটে আনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটি তাঁর শ্বশুর আফছার আলীর, এবং মোমিন ইসলাম সেটি জোরপূর্বক দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। অন্যদিকে যুবদল সদস্য ফিতা মিয়া দাবি করেন, তিনি মেহেদীর কথায় নয়, বরং পুলিশের আহ্বানে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং দুই পক্ষকে থানায় ডেকে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন মাত্র।

সাংগঠনিক ব্যবস্থার আশ্বাস
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান বলেন, ফেসবুকে ঘটনাটি নজরে এসেছে। তদন্তে সংগঠনের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!