• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ মুহররম ১৪৪৫

রাস্তায় আন্দোলন, হেঁটে-সিএনজি করে স্পিকারের দপ্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূত


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৪, ০৮:১৪ পিএম
রাস্তায় আন্দোলন, হেঁটে-সিএনজি করে স্পিকারের দপ্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক অচল হয়ে পড়ে, তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সবাই, বাদ যাননি ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিও। অবশেষে বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে সংসদ ভবনে যান তিনি।

বুধবার (১০ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শিগগিরই ঢাকা ত্যাগ করছেন চার্লস হোয়াইটলি। এ উপলক্ষে বুধবার সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত বিদায়ী সাক্ষাৎ ছিল। সেই অনুযায়ী ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বার্নড স্প্যানিয়ারকে নিয়ে রাষ্ট্রদূত চার্লস রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। তবে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে নিজেদের গাড়ি ছেড়ে দেন রাষ্ট্রদূত। হেঁটে কিছুদূর যান। পরে সিএনজি ভাড়া করে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে যান।

এ নিয়ে চার্লস হোয়াইটলি একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করেছেন এক্সে (টুইটারে)।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, গাড়ি ছেড়ে বেশ চনমনে মনে হেঁটে যাচ্ছেন এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দিয়ে। মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে নিজেদের বন্দি করছেন ফ্রেমে। এরপর বার্নড স্প্যানিয়ারকে নিয়ে সিএনজি রওনা হন।

পোস্ট করা ভিডিও শেয়ার করে হোয়াইটলি লিখেছেন, “বিক্ষোভের কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি ছেড়ে মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সিএনজিতে। ‘মৃত্যুর উপক্রম হওয়া’ তীব্র উত্তেজনার সিকোয়েন্সসহ ভিডিওটি তৈরি করেছেন বার্নড।”

পরে অবশ্য সময় মতোই সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে পৌঁছান হোয়াইটলি ও তার সঙ্গীরা।

এদিকে স্পিকারের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে তারা সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপসহ জাতীয় সংসদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরালো করতে ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেট অধিবেশনকালীন সময়ে জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাজেট সম্পর্কে ধারণা পেতে সংসদ সদস্যরা এই সেশনগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের সফলতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে।”

এসময় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অভিনন্দন জানান। তিনি জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা আনার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের স্পীকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।  

এর আগে হাইকোর্টের রায়কে ‘ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে সারা দেশে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমরা কোনো ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত মানছি না। আমাদের এক দফা দাবি, সংসদে আইন পাস করে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম (সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ) কোটা রেখে সব ধরনের বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। এ দাবি নির্বাহী বিভাগ থেকে যতক্ষণ না পূরণ করা হবে, ততক্ষণ আমরা রাজপথে থাকব।”

এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকছে বলে জানান আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন করে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১টার দিকে এমন ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ শাখার সমন্বয়ক নাজমুল হাসান।

দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত আন্দোলন চলবে জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, “কোটা নিয়ে বারবার টালবাহানা দেখতে চাই না। সব গ্রেডে অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাস করতে হবে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই, পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই।”

Link copied!