ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না : প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ০৬:০৪ পিএম
ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না : প্রধানমন্ত্রী

ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে কারচুপি শুরু করেন জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ-না ভোটে না এর বাক্স পাওয়া যেত না। কেবল হ্যাঁ-এর বাক্স পাওয়া যেত।”

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়।

জিয়ার পকেট থেকে অবৈধভাবে বিএনপির জন্ম হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেনা, “ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দাদের সহায়তায় এই বিএনপির জন্ম। কিছু রাজনীতি শিখেছে ‍আমাদের সঙ্গে যৌথ আন্দোলন করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন আমরা করি, তখন ওই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তারা কিছু শিখেছে। এটাই বাস্তবতা। তাছাড়া তাদের রাজনীতি আর কী ছিল।”

বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করে 

২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য বিএনপি নিজ দলের নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও মোর্শেদ খানের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “টাকা দিতে না পারায় বিএনপির ওই নেতারা মনোনয়ন পাননি। তারা আমার কাছে এসে এ কথা জানিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশটাকে এমন অবস্থা বানিয়েছিল যেন জরুরি অবস্থা (ইমারজেন্সি) ঘোষণা হয়। আর সেই ইমারজেন্সিতেও যারা এসেছিল প্রেসিডেন্ট ছিল বিএনপির, প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন, মাইনুদ্দিন সবই বিএনপির সৃষ্টি। ক্ষমতা দখল করে তারা কিন্তু গ্রেপ্তার করল আমাকে, খালেদা জিয়াকে না। এটাই হচ্ছে আশ্চর্যের বিষয়। কারণ আমি তাদের কিছু কাজের প্রতিবাদ করেছিলাম।”

তিনি বলেন, “আমি সত্য কথা বলতে কখনো ভয় পাই না। তাদের হাতেই মামলা, সেই মামলায় তারা সাজা পেয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। জিয়া অরফানেন্স ট্রাস্টের টাকা বিদেশ থেকে এসেছিল। একটি টাকাও এতিমখানায় যায়নি, সব টাকাই নিজে রেখে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি।”

ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না 

ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভোট চুরি করলে জনগণ জানে সেই সরকারকে কীভাবে উৎখাত করতে হয়। বিএনপি জিতবে কীভাবে? তারা এক আসনে তিন প্রার্থী দেয়। নির্বাচনে বিএনপির নমিনেশন হচ্ছে ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’। আমার কাছে বিএনপির দুইজন নেতা অভিযোগ করে বলেছেন নির্বাচনে নমিনেশনের জন্য তারেক টাকা চেয়েছে। টাকা দিতে না পারলে বাদ। ওইভাবে নির্বাচনে জেতা যায় না। যে দলের এই অবস্থা তারা গণতন্ত্র উদ্ধার করবে?”

সরকার প্রধান বলেন, “কয়েক প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাস জানতেই পারেনি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করতেন না। তিনি এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ইতিহাস বিকৃত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের স্বাধীনতার ভাষণ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন।”

ভোট চুরির কালচার জিয়ার

মানুষের ভোট চুরি করলে মানুষ ছেড়ে দেয় না। এটা খালেদা জিয়ার মনে থাকা উচিত। আমাদের অপবাদ দেওয়া হয় ভোট চুরির। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়। ভোট চুরি, ভোট কারচুপির কালচার কে দিয়েছে? জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ, না ভোট দিয়ে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। না ব্যালট পাওয়া যায়নি। সব হ্যাঁ ভোট ছিল।”

বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষও জিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কথা বলেছিলেন। এখনো অনেকে আছেন খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের সঙ্গে। মানি লন্ডারিং, অস্ত্র কারবারি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি তারেক। খালেদা জিয়া এতিমের টাকার আত্মসাতের মামলার আসামি। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যারা এখন গণতন্ত্রের কথা বলে তারা বুদ্ধিজীবী নন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা খালেদা-তারেকের সঙ্গে গিয়ে মিলেছেন।”

শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে বিএনপি 

বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার পেটুয়া বাহিনী সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ঢাবিতে রাতের অন্ধকারে ভিসিকে সরিয়ে নতুন আরেকজনকে বসিয়ে দিয়ে সেই পদটাও দখল করে নেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকসহ বহু নেতাকর্মী হত্যা করে। তাদের অত্যাচার নির্যাতনে সারাদেশ ছিল নির্যাতিত। শুধু ক্ষমতায় থাকলেই নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও অগ্নিসন্ত্রাসের কথা সবার জানা। ২০১৩-২০১৪ সালে প্রায় তিন হাজার মানুষকে দগ্ধ করেছে তারা। বাস-লঞ্চ-রেল কোনোকিছুই তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।”

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, “বিএনপির কাজই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট।’ এর প্রতিবাদে আমি ছাত্রলীগের হাতে বই-খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, শিক্ষা শুধু নিজেরাই গ্রহণ করবে না, গ্রামে গিয়ে নিরক্ষর মানুষকে শিক্ষা দেবে। তারা সেটিই করেছে। আমাকে রিপোর্টও দিয়েছে। আমাদের পেটুয়া বাহিনী লাগে না।”

গুজবের জবাব দেবে ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগকে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “জবাব দেওয়া বেশি কিছু না। তারা যেটা লিখবে, সেখানে কমেন্টে গিয়ে তারা অতীতে কী করেছে, সেটা লিখে দিলেই হয়। এরপর আর তারা অপপ্রচার করবে না। এটা ছাত্রলীগ ভালোভাবেই করতে পারবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। আজ সকালেও একটার উদ্বোধন করলাম। জাপান, চীন, ভারত, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। যারাই বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের জায়গা ও নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। একটা শ্রেণি গুজব ছড়াচ্ছে। তারই ফলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা চোরের সঙ্গে সখ্য কি না জানি না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিটি ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে। অতএব গুজবে কান দেবেন না।

ছাত্রলীগের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “ছাত্রদের লেখাপড়া করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই মেধাবী। পড়াশোনা করে বিসিএস পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশ নিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। শুধু রাজনীতি নয়, পাশাপাশি সব কিছুতে নিজেদের অবস্থান রাখতে হবে।”

ছাত্রলীগের কার্যক্রমের প্রশংসা

ছাত্রলীগের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “ছাত্রলীগ সব সময় মানুষের পাশে থাকে, তাদের ধন্যবাদ জানাই। করোনায় যখন বাবা-মায়ের মৃত্যুতে ভাইবোন পর্যন্ত মরদেহ ফেলে চলে যেত বা আক্রান্ত হলে ছেড়ে চলে যেত। তখন তাদের পাশে ছিল ছাত্রলীগ। চিকিৎসা দেওয়া, খাদ্যের ব্যবস্থা করার কাজটি করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিলেটের বন্যার দুঃসময়ে মানুষের পাশেও ছিল এ ছাত্রলীগ। ওই দুর্গম এলাকায়ও তারা ছুটে গেছে, মানুষের পাশে থেকেছে। কৃষকের ধান কাটায়ও অগ্রণী ভূমিকা ছিল ছাত্রলীগের। আমার নির্দেশ মতো সবার আগে তারা কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। পরে কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অনেকেই মাঠে নেমেছে। তবে ছাত্রলীগই আগে নেমেছে। সব সময় ছাত্রলীগ অগ্রসেনা।”

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!