• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৪ মুহররম ১৪৪৫

বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে টেন্ডারবাজি, গ্রেপ্তার ২


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২২, ০৩:০৩ পিএম
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে টেন্ডারবাজি, গ্রেপ্তার ২

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ভাঙিয়ে টেন্ডারবাজির মাধ্যমে প্রতারণাকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বুধবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মে) রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‍্যাব-৩। গ্রেপ্তাররা হলেন মনসুর আহমেদ (৩৩) ও মো. মহসিন চৌধুরী। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা প্রতারণার বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য রয়েছে। চক্রের মূল হোতা মনসুর। চক্রটি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে আসছেন। তারা প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করতেন। প্রথমত, তারা নতুন মোবাইল সিম ক্রয় করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করতেন। পরবর্তী সময়ে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চ্যাটিং করতেন। এই চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করতেন, যাতে যেকোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা ইতিপূর্বে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে এবং তাদের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুবই সুসম্পর্ক রয়েছে।

গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আরও জানান, এই চক্রের একজন সদস্য তথাকথিত সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন। যিনি নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিতেন এবং সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন বলে গ্রেপ্তাররা জানান।

খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তার মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির দালালি করতেন। পরবর্তী সে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। সেখানে কর্মরত থাকাকালীন এভাবে প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। পরবর্তী  ওই এজেন্সির এক কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি প্রতারণার জন্য এই চক্রটি গড়ে তোলে। গ্রেপ্তার মহসিনের ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস কারখানা ছিল। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে কারাখানা বিক্রি করে দেন। পরে মতিঝিলে মনসুরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।
 

Link copied!