ঈদুল আযহার প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি। কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সঙ্গে যুক্ত করে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ। (সুরা কাওসার: ১-৩)
সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরবানি দেন মুসলমানরা। আবার অনেকে কোরবানির পশুতে আকিকাও দেন। সন্তানের আকিকা করা মুস্তাহাব। কোরবানি ও আকিকা একই ধরনের ইবাদত। এ দুটি একসঙ্গে একই পশু দ্বারা জায়েজ হবে। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি সবাই কোরবানির নিয়ত করে, তাহলে কোরবানি সবার পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হয়ে যায়। এমনিভাবে কেউ যদি তার অতীতে ভূমিষ্ঠ সন্তানের আকিকা করতে চায় তাও সহীহ হবে। (ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩০৪)
আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশে সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে পশু জবাই করে আকিকা দেওয়া হয়। জন্মের সপ্তম দিনেই আকিকা করা উত্তম। নয়তো ১৪ তম দিনে কিংবা একুশতম দিনেও আকিকা করা যাবে। আবার ২১তম দিনের মধ্যে না হলে পরেও তা আদায় করা যাবে। যদি ওই সময় আকিকা দেওয়া না হয় তবে বড় হওয়ার পরও তা করা যায়।
হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত কর (অর্থাৎ পশু যবাই কর) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও। (বুখারী, হাদিস: ৫৪৭২)
তিরমিজির এক হাদিসে সপ্তম দিনে আকিকা করার কথা বলা হয়েছে। (হাদিস: ১৫২২) রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন রা.-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৪)
সাধারণত ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিয়ে আকিকা দেওয়া যাবে। কোরবানির পশুতে আকিকা করতে হলে পশু যদি গরু, উট, মহিষ হয় তবে ছেলে সন্তানের আকিকায় দুই নাম দিতে হবে। আর মেয়ে সন্তানের আকিকায় এক নাম দিয়ে আকিকা আদায় করা যাবে।
কিন্তু আকিকাকে কোরবানির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কোরবানির সামর্থ্য থাকলে তা দিতেই হবে। পাশাপাশি আকিকার উদ্দেশ্যেও পশু কিনে নেওয়া যাবে। তবে কোরবানিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আকিকা করা যাবে না। কোরবানি যার উপর ওয়াজিব তাকে অবশ্যই তা করতে হবে। আর আকিকা করার সামর্থ্য থাকলে কোরবানির সঙ্গেও তা করা যাবে। আবার কোরবানি যার উপর ওয়াজিব হয় নি, তিনি শুধুমাত্র আকিকাও দিতে পারবেন।


















