মুখে পাউডার, চোখে কাজল আর ঠোটে লিপস্টিক দিলেই হয়ে যেত মেকআপ। ন্যাচারাল মেকআপেই সৌন্দর্য্য ফুটে উঠতে। সময় বদলেছে। নতুনত্ব এসেছে মেকআপের স্টাইলেও। প্রাইমার, কনসিলার, লাইনার, ফাউন্ডেশন কত কিছু দিয়েই এখন মেকআপ করা হয়। সবকিছুর মাঝে ফেস কনট্যুরিং তো অবশ্যই।
ফেস কনট্যুরিং করে নিজের চেহারা শেপ বদলে নেওয়া যায়। মুখের বেমানান অংশ মেকআপ দিয়ে ঢেকে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা যায় এই পদ্ধতিতে। মেকআপ দুনিয়ায় এই কনট্যুরিংয়ের প্রয়োগ নতুন নয়। আগে বউ সাজানোর সময় এই পদ্ধতিতে মেকআপ করা হতো। কিন্তু এখন টিনেজার থেকে শুরু করে সবাই ফেস কনট্যুরিং করে। অনেকে সঠিক পদ্ধতি না জেনেই কনট্যুরিং করে। তবে ভুল প্রয়োগে চেহারার আকৃতি বিগড়ে যেতে পারে। ফেস কনট্যুরিং করার জন্য় সহজ উপায়গুলো জানুন। যারা নতুন তাদের জন্য় রইল কনট্যুরিং করার সহজ ধাপ।
- ত্বকের জন্য মানানসই ফাউন্ডেশনের শেড নির্বাচন করুন। কনট্যুরিং করার প্রডাক্টটি ভালো ব্যান্ডের কিনতে হবে। ত্বকের ধরণের সঙ্গে মানিয়ে যাবে এমন কনট্যুরিং কিনুন। সঠিক কনট্যুরিংনির্বাচন না করলে মেকআপ ভালো হবে না। সেই সঙ্গে সঠিক মাপের ব্রাশও নির্বাচন করতে হবে।
- ত্বকের ধরণের চেয়ে এক শেড গাঢ় টোনের কনট্যুরিং কিনতে হবে। ব্রাশে অতিরিক্ত নিবেন না। ত্বকের উপর স্পঞ্জের পরিবর্তে অ্যাঙ্গেল কনট্যুর ব্রাশ ব্যবহার করুন। এটি মুখের আকৃতিকে পুরোপুরি ফিট করে।
- মুখের দাগ ঢাকতে ফাউন্ডেশন লাগান। ফাউন্ডেশন ত্বকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। ফাউন্ডেশন যত ভালো ব্লেন্ড হবে, মেকআপ তত ভালো ফুটে উঠবে। ফাউন্ডেশন লাগানোর পরই কনট্যুরিং করবেন। এর আগে করবেন না।

- কনচ্যুরিং-য়ের সময় চোয়ালের নিচের অংশ, নাকের পাশের অংশ, গালের অংশে দাগ কেটে নিন। সেই দাগ অনুসারে ব্লেন্ড করুন। হেয়ারলাইন থেকে শুরু করে, কপালের বাইরের অংশে দাগ কাটুন। এতে কপালের শেপ সরু হবে। এরপর গালের হাড়ের দিকে যেতে হবে। সরাসরি গালের মাঝে চোয়াল পর্যন্ত দাগ কাটুন। চোয়ালের বাইরের প্রান্তে যথেষ্ট কনট্যুরিং করুন। এতে মুখের আকৃতিতে সুন্দর শেপ আসে। ঠোঁটের দুই পাশে হালকা করে কেটে নিন। ঠোট আরও শার্প দেখাবে।
- বর্গাকার মুখের কনট্যুর করার প্রথম ধাপ হল আপনার মুখের আকৃতি নির্ধারণ করা। বর্গাকার মুখের ভ্রুর হাড়, গালের হাড় এবং চোয়ালের লাইন প্রায় একই প্রস্থ। আপনি আপনার চিবুকের দিকেও তাকাতে চাইবেন। ছোট চিবুক বর্গাকার মুখের একটি বৈশিষ্ট্য। চুলের রেখা থেকে ভ্রুর হাড় পর্যন্ত এবং ভ্রু থেকে নাকের ছিদ্র এবং উপরের ঠোঁট থেকে চোয়াল পর্যন্ত সমস্তটা দাগ কেটে কনট্যুরিং করুন।
- কনট্যুরিং-এ যে দাগ এঁকেছেন সেই পর্যায়ের মেকআপ ফুটিয়ে তুলুন। চোখের তলার অংশ ফোলাতে, নাক টিকালো করতে, ডবল চিন সঠিকভাবে মেকআপ দিয়ে ঢাকুন।
- শেষ পর্যায়ে ফিনিশিং টাচ দিন। কনট্যুরিংয়ের জায়গাগুলোতে হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। গালের অংশে ও নাকের কনট্যুরিংয়ের উপরের অংশে হাইলাইটার লাগিয়ে ফিনিশিং টাচ দিন। মুখের ধরণ অনুযায়ী কনট্যুরিং করে নিন। নয়তো দেখতে অস্বাভাবকি দেখাবে। মনে রাখবেন, কনট্যুরিং করলেও চেহারার ন্যাচারাল ভাব যেন ঠিক থাকে।




















