হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ম

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করতে নতুন কঠোর নিয়ম জারি করেছে ইরান। এখন থেকে এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি নৌযানকে তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘সম্মতিপত্র’ বা পারমিট নিতে হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল পরিশোধ করতে হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। মাঝে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই রুটটি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

নৌচলাচল বিষয়ক বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘লয়েড’স লিস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) গঠন করে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো চালু করেছে। নতুন নিয়মে কোনো জাহাজ এই প্রণালি পাড়ি দিতে চাইলে তাদের ৪০টিরও বেশি তথ্য সম্বলিত একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

যাচাই-বাছাই শেষে তেহরান সবুজ সংকেত দিলে তবেই জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাবে। তবে টোলের পরিমাণ ঠিক কত হবে, সে বিষয়ে ইরান এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখছে। পিজিএসএ-এর পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ফরমে কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার পূর্ণ দায় আবেদনকারীকে বহন করতে হবে।

শনিবার (৯ মে) এক ইরানি সামরিক কর্মকর্তা সাফ জানিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের জন্য এই রুট ব্যবহার করা আরও কঠিন হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন থেকে সব নৌযানকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অঞ্চল পাড়ি দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওমান ও ইরান সীমান্তবর্তী এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের এই নতুন নিয়ম বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!