এক সময় তারকাদের ঝলকানিতেই উজ্জ্বল থাকত তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা। টলিউডের জনপ্রিয় মুখদের সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামত দল, আর সেই কৌশল যে বেশ কার্যকর ছিল— তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যেন সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের এক জন তারকাপ্রার্থীও জয়ের মুখ দেখলেন না। রাজ চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসু, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সী— পরিচিত এই সব মুখও ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লেন।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি-র তারকা প্রার্থীরা কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সফল। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ কিংবা হিরণ চট্টোপাধ্যায়— তাঁদের অনেকেই জয় ছিনিয়ে এনেছেন।
কেন এই ফারাক?
প্রশ্নটা এখন টলিপাড়ার অন্দর থেকে সাধারণ ভোটার— সবার মুখে।
একাধিক পর্যবেক্ষকের মতে, তৃণমূলের তারকাদের মধ্যে দূরত্ব, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ‘গ্রুপিজম’ বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অভিযোগ— কে কার সঙ্গে কাজ করবে, কে কার সঙ্গে কথা বলবে— এই বিভাজন সাধারণ মানুষের চোখ এড়ায়নি।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র-ও একই সুরে বলেন, ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনৈতিকভাবে ভাগ করে দেওয়াই সমস্যার শুরু। তাঁর মতে, “মানুষ বুঝে গিয়েছে, শুধুমাত্র তারকা মুখ দিয়ে রাজনীতি হয় না— দরকার মাটির কাছাকাছি কাজ।”
ইমেজ বনাম বাস্তবতা
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে— ইমেজ ম্যানেজমেন্ট বনাম বাস্তব কাজ। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের কিছু তারকা প্রার্থী প্রচারে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন চেহারা ও উপস্থাপনায়, বাস্তব সমস্যার তুলনায়।
অন্যদিকে, বিজেপির তারকাদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। তাঁরা নিজেদের ‘সেলিব্রিটি’ পরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এলাকার সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা— এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেছেন।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় যেমন স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর প্রচারের ফোকাস ছিল এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা, ব্যক্তিগত প্রচার নয়।
শেষ কথা
এই নির্বাচনের ফল যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল—
তারকার জনপ্রিয়তা আর ভোটের সমীকরণ এক নয়।
ভোটাররা এখন শুধুই মুখ দেখেন না, দেখেন কাজ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানুষের পাশে থাকার ইতিহাস। আর সেই জায়গাতেই পিছিয়ে পড়েছেন তৃণমূলের তারকাপ্রার্থীরা— অন্তত এই নির্বাচনে।

















