• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

প্রার্থীর টাকা নিতে অস্বীকৃতি, পোলিং অফিসারকে মারধর


শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৪, ০৩:১৩ পিএম
প্রার্থীর টাকা নিতে অস্বীকৃতি, পোলিং অফিসারকে মারধর
মারধরের ঘটনার পর পোলিং অফিসারের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। ছবি : প্রতিনিধি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর টাকা নিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করায় এক পোলিং অফিসারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৯ মে) রাতে উপজেলার বিকে নগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে জাজিরার শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ মে) ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জাজিরা উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে ২৫ নম্বর বিকে নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর আবু সাইদ পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। পোলিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ নিয়ে রোববার রাতে মীর আবু সাইদ বাড়ির পাশে বিকে নগর বাজারে যান। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক যুবক মীর আবু সাইদকে বাজারের একপাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিকে নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার, আব্দুল আলী সরদার ও মজিবুর বানিয়া।

এসময় সাইদুর রহমান সরদারসহ অন্যরা মীর ইমরান আলীকে নির্বাচনের দিন মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির পক্ষে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেন। বিনিময়ে তাকে মোটা অঙ্কের টাকাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। সরকারি কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি হিসেবে মীর আবু সাইদ এমন প্রস্তাবে রাজি হননি। এরপর সাইদুর রহমান সরদার, আব্দুল আলী সরদারসহ অন্যান্যরা মীর আবু সাইদকে মারধর করেন। খবর পেয়ে মীর আবু সাইদের স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে অবস্থান করছেন মীর আবু সাইদ। এঘটনায় জাজিরা উপজেলার শিক্ষকসহ অন্যান্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী পোলিং অফিসার ও শিক্ষক মীর আবু সাইদ বলেন, “২১ তারিখের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পোলিং অফিসার হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে আমি বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। এসময় ব্যক্তিগত কাজে বাজারে গেলে একজন লোক আমাকে ডেকে নিয়ে যান সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানসহ অন্যান্যদের কাছে। তারা আমাকে টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দিলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এরপর তারা আমাকে মারধর করে। এ বিষয়ে আমি সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অভিযোগ দেব।“

অভিযুক্ত মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক ও বিকে নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার বলেন, “আপনি কোথা থেকে বিষয়টি জেনেছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। মীর আবু সাইদ এমন কোনো বংশের ছেলে নয় যে, তাকে ম্যানেজ করতে পারলে একশ ভোট পাওয়া যাবে। হতে পারে সে সরকারি চাকরিজীবী ও পোলিং অফিসার। তার সঙ্গে আমাদের কারও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আক্তার সুমি সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “আমরা সরকারি চাকরি করি। সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। নির্বাচন একটি রাজনৈতিক ইস্যু। কারও পক্ষ নিয়ে কাউকে রাজনৈতিকভাবে সুযোগ সুবিধা প্রদান করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনগতভাবে অন্যায়। আমাদের শিক্ষক মীর আবু সাইদ এমন একটি প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে অন্যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করব।”

জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম লুনা সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Link copied!